বন্ধ হতে পারে ব্যবসায়িক কার্যক্রম

আখাউড়া স্থলবন্দরে পরিবহন সিন্ডিকেট

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১৯:৫৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে পরিবহন সিন্ডিকেট গড়ে উঠার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই সিন্ডিকেটের বাইরে কারও ট্রাক এ বন্দরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি সিন্ডিকেটের বাইরে থেকে আসা ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়েরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চাঁদা আদায়ের বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপ। এতে এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে গতকাল সোমবার (১৮ অক্টোবর) থেকে জেলার কোনো ট্রাক দিয়ে এ বন্দরের পণ্য পরিবহন করা হবে না বলে জানানো হয়। এমনকি অন্য জেলার ট্রাকও আসতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

চাঁদা আদায়ের বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন খোকন বলেন, এ বন্দরে ট্রাক নিয়ে এলে প্রভাবশালীদেরকে টাকা দিতে হয়। এমনকি চাঁদা না দেওয়ায় আমাদের কয়েকজন চালককে মারধর করা হয়েছে। বিষয়টির কোনো সুরাহা না হওয়ায় সোমবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আমরা জেলার কোনো ট্রাক দিয়ে পণ্য পরিবহন করবো না বলে জানিয়ে দিয়েছি।

জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. মহসীন বলেন, চাঁদা না দিলে আমাদের চালকদেরকে মারধর করা হয়। ট্রাক ভাড়া নিয়েও টালবাহানা করা হয়। যে কারণে পণ্য পরিবহন বন্ধ রাখার বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে কয়েকজন আখাউড়ায় গেছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পণ্য পরিবহন করা না করা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আখাউড়া স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আখাউড়া বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনে যেসব ট্রাক ব্যবহার করা হয় এসবের বেশির ভাগই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অভ্যন্তরের। এখন যদি তারা ট্রাক না দেয় তাহলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম এক প্রকার বন্ধ হয়ে যাবে। কেন না, অন্য জায়গা থেকে ট্রাক ভাড়া করে এনে ভাড়া দিয়ে পোষাবে না। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

বন্দরে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, আখাউড়া উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ইবনে মাসুদ লাকসু। তিনি বলেন, বন্দরে পণ্য পরিবহনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ট্রাককে অগ্রাধিকার দেওয়া আছে। এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই। প্রতি ট্রাকে ৫০টাকা হারে চাঁদা আদায় বন্ধ করে দেওয়ায় ট্রাক মালিকরা মিথ্যা অভিযোগ করেছে।

ইত্তেফাক/ইআ/এনএজেডএন