কল ড্রপের শীর্ষে গ্রামীণফোন

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৯

মোবাইল ফোনে কল ড্রপ নিয়ে বিরক্ত সাধারণ মানুষ। মানুষের এই বিরক্তি থেকেই মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সেবা নিয়ে একটি জরিপ করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন- বিটিআরসি। গত ৬ থেকে ৮ নভেম্বর ঢাকা শহরের ১৫টি স্থানে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন জরিপ কমিটির সদস্যরা। সেখানে দেখা গেছে কল ড্রপের শীর্ষে রয়েছে গ্রামীণফোন। বিটিআরসি বেঁধে দেওয়া সীমারেখা যেখানে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ। অন্য অপারেটরগুলোর কল ড্রপ এই সীমার নিচে থাকলেও গ্রামীণফোনের কল ড্রপ ৩ দশমিক ৩৮ ভাগ। অর্থাত্ নির্ধারিত সীমার চেয়েও ১ দশমিক ৩৮ ভাগ বেশি।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক ইত্তেফাককে বলেন, ‘সেবার মান নিয়ে আমরা কোন আপোষ করব না। নির্ধারিত সীমারেখার মধ্যে যারা থাকতে পারবে না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনে বলা আছে, আগে তাদের বিষয়টি জানাতে হবে, এরপর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। আজ আমরা তাদের বিষয়টি জানিয়েছি। এরপর ব্যবস্থা নেব। সবাইকে বিটিআরসির বেঁধে দেওয়া সীমারেখা মানতেই হবে।’

ঢাকা শহরের উত্তরা, বারিধারা, গুলশান, বনানী, খিলগাঁও, রামপুরা, যাত্রাবাড়ি, পুরনো ঢাকা, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, আগারগাঁও, মিরপুরের কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, পল্লবী এবং বেড়িবাঁধ এলাকায় এই জরিপ করা হয়। গতকাল সোমবার বিটিআরসি সেই জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। জরিপ কমিটির সদস্যরা ৩ হাজার ৩০০ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। জরিপ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কল করার ক্ষেত্রে বিটিআরসি নির্ধারিত সফলতার হার ৯৭ ভাগ। সেখানে সব অপারেটরেই সফলতার হার এর থেকে বেশি। কিন্তু গ্রামীণফোনের কল ড্রপের হার বিটিআরসির বেঁধে দেওয়া সীমারেখার চেয়ে বেশি। অন্যদের হার ২ শতাংশের কম। পাশাপাশি কল জেনারেট (এক মোবাইল ফোন থেকে অন্য মোবাইল ফোনে যেতে যে সময় লাগে) করতেও সবার চেয়ে বেশি সময় লাগে গ্রামীণফোনের। এখানে বিটিআরসির বেঁধে দেওয়া সময় ৭ সেকেন্ড। সেখানে গ্রামীণফোনের লাগে গড়ে ১০ দশমিক ১৪ সেকেন্ড। রবি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (৬ দশমিক ১৫ সেকেন্ড) কল জেনারেট করলেও বাংলালিংকের লাগে ৭ দশমিক ৬৯ সেকেন্ড ও টেলিটকের সময় লাগে ৭ দশমিক ১১ সেকেন্ড। অন্যদিকে কলের মান বিচারে সবাই বিটিআরসির নির্ধারিত সীমারেখা পুরণ করতে পারলেও রবি সেটা পারেনি। 

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ফোরজিতে আপলিংকের গতি যেখানে থাকার কথা নূন্যতম ৭ এমবিপিএস সেখানে গ্রামীণফোনের পাওয়া গেছে গড়ে ৫ দশমিক ৮৮ এমবিপিএস। রবি একটু বেশি ৫ দশমিক ৯১ এমবিপিএস এবং বাংলালিংক ৫ দশমিক ১৮ এমবিপিএস। ডাউনলিংকের নির্ধারিত গতি ১ এমবিপিএস। সেখানে তিন অপারেটররেই সীমা ১ এর বেশি পাওয়া গেছে। তবে থ্রিজিতে সব অপারেটরই ডাউনলিংক ও আপলিংকের গতি নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি।  বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং ও অপারেশন বিভাগ থেকে এই জরিপটি করা হয়। এই বিভাগের পরিচালক গোলাম রাজ্জাক ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক আহসানুল হাবীব মিথুনের স্বাক্ষর করা প্রতিবেদনটি বিটিআরসির ওয়েবসাইটেও দেওয়া হয়েছে।