রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিচতলায় মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক এ এইচ এম ফিরোজের কক্ষে শর্টসার্কিটের ফলে আগুনের সূত্রপাত। পরে পাশে মেডিসিনের স্টোর রুমে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আগুন নীচ তলা থেকে দ্বিতীয় তলা এবং তিন তলায় শিশু ওয়ার্ডে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই সরকারি হাসপাতালে আগুন লাগার পর ওই দিনই স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বাবলু কুমার সাহাকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে মন্ত্রণালয়। গতকাল স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ সচিব জিএম সালেহ উদ্দিনের কাছে তদন্ত কমিটি তার রিপোর্ট জমা দিয়েছে। রিপোর্টে আগুনের উত্স হিসেবে শর্টসার্কিটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, অগ্নিকান্ডের চারদিন পর গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে হাসপাতালের চিকিত্সা সেবা কার্যক্রম আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। গতকাল বিকাল ৩ টা পর্যন্ত হাসপাতালে ১ হাজার ২৫ জন রোগী ফিরে আসেন। হাসপাতালের পরিচালক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘৮৫০ বেডের এই হাসপাতালে বেশিরভাগ সময় দ্বিগুন রোগী চিকিত্সা নিয়ে থাকেন। অগ্নিকান্ডের দিন ফিরে যাওয়া ১২শ’ রোগীর মধ্যে দেড়শ’ রোগী ফিরে আসেননি। তাদের চিকিত্সা শেষের দিকে ছিল। হয়তো তারা আর আসার প্রয়োজন মনে করছেন না। তবে আইসিইউতে ১০ জন রোগীই ফিরে এসেছেন। আমরা এখন পূর্ণদমে সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। অগ্নিকাণ্ডের কারণে শিশু ওয়ার্ডে উত্কট গন্ধ ছড়াচ্ছে। দেয়াল ও ছাদে পোড়া দাগ। পুরো ওয়ার্ড রং করার পর চালু করতে আরো তিন দিন সময় লাগবে’।
শিশু ওয়ার্ডের পাশেই গাইনী ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া নাজমা বেগম (৪০), শাহানার বেগম(৪০), ফিরোজা বেগম (৪০), ফাতেমা মৃধা (৩৫) ও ময়না বেগম (৫০) জানালেন, অগ্নিকান্ডের দিন তারা চলে গিয়েছিলেন। দুই-তিন দিন পর থেকে তারা আবার ফিরে এসেছেন। এদিকে অগ্নিকান্ডের সুযোগে হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ থেকে ১২টি কম্পিউটার চুরি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণ করার সময় গত শনিবার বিষয়টি ধরা পড়ে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, আগুন লাগার পর কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুত্ ছিল না। ওই সময় রোগী ও স্বজনদের সহায়তায় বাইরে থেকে শত শত মানুষ হাসপাতালে ঢুকেছিল। তাদের মধ্যে দুষ্কৃতকারীরাও থাকতে পারে।
