দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প নিয়ে গ্যাঁড়াকলে সিডিএ

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৪৮

ভূমি অধিগ্রহণে নতুন আইনের গ্যাঁড়াকলে পড়ে অনেকটা থেমে গেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অনন্যা আবাসিক এলাকা (দ্বিতীয় পর্যায়) বাস্তবায়ন প্রকল্প। ২০১৭ সালের শুরুতে অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্প এখনো শিশুকাল পার করতে পারেনি। নতুন আইনটি অন্তত দেড় বছর আগে পাস হলেও এতোদিন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই প্রকল্পের। তবে এখন নতুন করে প্রকল্পটি শুরু করার কথা বলছে সিডিএ।

২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি একনেক সভায় প্রায় দুই হাজার ৮৩২ কোটি টাকার এই প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর সাত মাস পর সেপ্টেম্বরে এসে ‘স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন, ২০১৭’ পাস হয়। এই আইনে ভূমি মালিককে তিনগুণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন এই আইনের ফলে প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে আগে যেখানে ২ হাজার কোটি টাকা বাজেট রাখা হয়েছিলো, নতুন আইন অনুযায়ী তা চার হাজার কোটি টাকায় পৌঁছে। একই সাথে আগে যেখানে ভূমি উন্নয়নের পর পরিবেশের ছাড়পত্রের প্রয়োজন হতো, নতুন আইনে ভূমি অধিগ্রহণের আগেই পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়ার নিয়ম করা হয়। ফলে গ্যাঁড়াকলে পড়ে প্রকল্পটি একপ্রকার থেমেই যায়। দেড় বছর পর এসে সিডিএ বলছে, প্রকল্পটি নিয়ে নতুন করে এগুচ্ছে সিডিএ।

সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক আহমদ মঈনুদ্দীন এ প্রসঙ্গে ইত্তেফাককে বলেন, ‘নতুন আইনের কারণে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বেড়ে গেছে। এ কারণে আমরা প্রকল্পটি নিয়ে নতুন করে চিন্তা করছি। এরসাথে ভূমি অধিগ্রহণের আগে পরিবেশের অনাপত্তিপত্রের বিষয় আছে। সেটির জন্য আবেদন করা হয়েছে। উনারা সেটেলমেন্ট প্ল্যান চেয়েছেন। সেটি দেওয়া হবে। অনাপত্তিপত্র মিললে নতুন করে কাজ শুরু হবে। তবে প্রকল্পের ব্যয় কমাতে প্রকল্পের আকার কিছুটা ছোট হয়ে যেতে পারে। প্লটের সংখ্যাও কমে যেতে পারে।’

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সিডিএ’র কর্মকর্তারা জানান- পাঁচলাইশ, কুয়াইশ, বাথুয়া ও শিকারপুর- এই চার মৌজা থেকে ৪১৮ একর জমি অধিগ্রহণ করার পরিকল্পনা ছিল সিডিএ’র। কিন্তু জমির অধিগ্রহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রাথমিকভাবে পাঁচলাইশ ও কুয়াইশ মৌজা থেকে জমি অধিগ্রহণ করার পরিকল্পনা বাদ দেওয়া হতে পারে। এ অংশে জমির পরিমাণ প্রায় দেড়শ’ একর। আপাতত বাথুয়া  ও শিকারপুর থেকে তিনশ’ একর জমি অধিগ্রহণ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে আগে যেখানে দুই হাজার ৯৩৫টি প্লট তৈরির পরিকল্পনা ছিলো, এখন তা কমে যাবে।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘ক্ষতিপূরণ বেড়ে যাওয়ায় জমি অধিগ্রহণে বিলম্ব হয়েছে। ক্ষতিপূরণের বর্তমান হার অনুযায়ী প্রকল্পটির জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হলে প্রতিটি প্লটের দাম পড়বে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা। এত টাকায় প্লট কিনতে ক্রেতারা আগ্রহী হবে না। পাঁচলাইশ ও কুয়াইশ মৌজা বাদ দিয়ে বাথুয়া ও শিকারপুরের জমি অধিগ্রহণ করা গেলে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকায় প্লট বিক্রি করা যাবে।’

এদিকে পরিবেশের অনাপত্তিপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের এসিস্টেন্ট ডিরেক্টর বদরুল হুদা ইত্তেফাককে বলেন, ‘কোনো ধরনের ইএআই ও কমপ্লায়েন্স প্ল্যান ছাড়াই উনারা (সিডিএ) অনাপত্তির জন্য আবেদন করেছেন। আমারা তাদেরকে সেগুলো সরবরাহ করতে বলেছি। সেগুলো পেলে অনাপত্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিডিএ’র গাফিলতি ও অপরিকল্পিত পরিকল্পনার কারণে দুই বছরে বলার মতো তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। আর যেটুকু অগ্রগতি হয়েছে সেটাও এখন জলে যাবে। এই প্রকল্প শীঘ্রই আলোর মুখ দেখবে কিনা সেটা নিয়েও সন্দিহান কেউ কেউ।