চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী আবাসিক হল এ. এফ রহমান হল। বর্তমানে ৪ তলা বিশিষ্ট এই লাল দালানের নাম দূর থেকে মনে হবে 'বিজয়'। শাখা ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক উপগ্রুপ 'বিজয়' এর নামে হল জুড়ে চিকা মেরেছেন কর্মীরা। দেয়ালজুড়ে অতিরিক্ত আঁকাআঁকির কারণে গেটের উপরে হলের নামটা যেন চোখেই পড়ে না। ফলে অনেকেই এটাকে 'বিজয়' হল নামেই চিনছেন। বিশেষ করে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীরা এ হলের নাম মনে করছেন 'বিজয়' হল। ক্যাম্পাসে এসব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হলেও কোনো ব্যবস্থামূলক উদ্যাগ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, ক্যাফেটেরিয়া, ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও রাস্তায় চোখে পড়ে নানা গ্রুপের নামে চিকা। এমনকি রুমের দরজা জানালাতেও লিখা থাকে দখলে থাকা সংশ্লিষ্ট গ্রুপের নাম। বগিভিত্তিক উপগ্রুপ বিজয়, সিক্সটি নাইন, বাংলার মুখ, ভিএক্স ও কনকর্ড এসব কর্মকাণ্ডে বেশি সক্রিয়। মূলত নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিতেই এসব করেন বলে জানান বিভিন্ন গ্রুপের কর্মীরা।
ছাত্রলীগের কেন্দ্র থেকে চবিতে বগিভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও তা মানছেন না এখানকার নেতাকর্মীরা। গত ভর্তিপরীক্ষার সময় কেন্দ্র থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় শাটল ট্রনের বগি ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকায় বিভিন্ন ধরনের বগির নামে চিকা মারা, টি-শার্ট, প্লাকার্ড এবং স্লোগান সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ করা হলো। কিন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এমন নির্দেশ মানেনি শাখা ছাত্রলীগের একাধিক বগি ভিত্তিক গ্রুপ৷ চিকা মারার পাশাপাশি বগির নামে স্লোগান, টি শার্ট পরে ঘোরাসহ সবকিছুই করছেন তারা।
বিজয় গ্রুপের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইলিয়াস 'বিজয়' কে সাংস্কৃতিক সংগঠন দাবি করে বলেন, 'এই সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা ছাত্রলীগ করতেই পারে।' চিকা মারা নিয়ে তিনি বলেন, যারা এসব করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
ভিএক্স গ্রুপের নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয় বলেন, ভিএক্স ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ। জুনিয়র কর্মীরা তাদের আবেগ থেকেই চিকা মেরেছে। যারা শাখা ছাত্রলীগের দায়িত্বে আছেন তাদের হাতেই এগুলো নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেল দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, এসব কাজে সব সময় আমি নিরুৎসাহিত করেছি সবাইকে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও বলেছি এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে। কিন্তু কেন জানি প্রশাসন চিকাগুলো মুছে দিচ্ছে না। আমিও চাই ক্যাম্পাস থেকে বগিভিত্তিক রাজনীতি মুছে যাক। আমরা হল ভিত্তিক রাজনীতির দিকে ফিরতে চাই৷
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, হলের দেয়ালে বা অন্য কোথাও চিকা মারা নিষিদ্ধ। এটি শাস্তিমূলক অপরাধ। আমরা করোনার বন্ধে বিভিন্ন হলে নতুন রঙ করেছি। কিন্তু ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপ সেসবে চিকা মেরেছে। আমরা তাদের সাথে কথা বলেছি। কেউ স্বীকার করতে চায় না। তবে এসব কারা করছে তা অনুসন্ধান করছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
