স্বল্পমেয়াদী ও উচ্চ ফলনশীল হওয়ায় ব্রি ৮৭ ধান আবাদে সাফল্য পেয়েছেন পাবনায় চাষিরা। এ ধান কাটার পর পরই একই জমিতে রবি শস্য আবাদ করা যায়। বেশি ফলন ও জমির বহুমুখী ব্যবহারের সুযোগ থাকায় ব্রি ৮৭ ধান আবাদে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের।
কৃষিবিভাগ জানায়, সাধারণত অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি আমন ধান কাটা হলেও পাবনার মাঠে মাঠে এখন মধ্য কার্তিকেই পাকা ধানের সুবাস। কোথাও কোথাও ধান কাটাও শুরু হয়েছে। এমন ঘটনায় চাষিরা অবাক হলেও, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের স্বল্পমেয়াদী ব্রি ৮৭ ধান আবাদে মিলেছে এমনই সাফল্য। অন্যান্য ধান আবাদে কমপক্ষে ১৫০ থেকে ১৬০ দিন সময় লাগলেও, উচ্চ ফলনশীল ব্রি ৮৭ ধান আবাদ হয় মাত্র ১২৫ থেকে ৩০ দিন। কম সময়ে ফসল ঘরে তুলতে পেরে দারুণ খুশি চাষিরা।
ঈশ্বরদী উপজেলার আথাইলশিমুল গ্রামের কৃষক বক্কার মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে কৃষি বিভাগের পরামর্শে এক বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ব্রি ৮৭ জাতের ধান আবাদ করেছিলেন তিনি। রোপণের পর মাত্র ১২৫ দিনেই ধান পেকেছে। কাটাও শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, অন্যান্য ধানের ক্ষেত্রে প্রতি ছড়ায় ১৩০ থেকে ১৪০ টি ধান পেয়েছি। কিন্তু ব্রি ৮৭ ধানে প্রতি ছড়ায় ২২০ থেকে ২৪০ টি করে ধান হয়েছে। ফলন বেশি হওয়ায় এ ধানে ভালো লাভ হবে। আগামীতে আরও বেশি জমিতে এ ধানের আবাদ করবো।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর পাবনার অতিরিক্ত উপপরিচালক আব্দুল লতিফ ইত্তেফাককে জানান, ব্রি ৮৭ জাতের ধানে চিটা নেই বললেই চলে। আগাম ফসল কাটতে পারায় ওই জমিতে সরিষা, আলুসহ অন্যান্য রবি শস্য করার উদ্যোগ নিতে পেরেছেন কৃষকরা। বাম্পার ফলনের খবরে প্রতিদিনই আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা দেখতে আসছেন নতুন জাতের ধান। তারাও আগামীতে উচ্চ ফলন পেতে এই ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
সম্প্রতি ব্রি ৮৭ ধানের প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শনে আসেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো আসাদুল্লাহ । তিনি বলেন, ব্রি ৮৭ ধানের রোগবালাই কম। চাল চিকণ ও সাদা। হেক্টর প্রতি গড় ফলন সাড়ে ৬ টন। বিঘা প্রতি ফলন ২৩ থেকে ২৫ মণ। কম সময়ে উৎপাদন ও আগাম কর্তনে একই জমিতে রবিশস্য আবাদ করতে পারছেন। এতে উৎপাদন ও আয় দুটোই বাড়ায় ধানটি চাষিদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে উচ্চ ফলনশীল ধানটির আবাদ সম্প্রসারণে কাজ করছে কৃষিবিভাগ। অল্প দিনের মধ্যেই ব্রি ৮৭ ধান আমন মৌসুমের প্রধান শস্যে পরিণত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
চলতি মৌসুমে পাবনায় ১হাজার ৩৬৯ হেক্টর জমিতে ব্রি ৮৭ ধানের আবাদ হয়েছে। হেক্টর প্রতি সাড়ে ছয় টন গড় ফলনে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ৮ শত ৯৮ টন।
