ধান সংগ্রহে অনিয়ম

কৃষকের লটারির ভাগ্য বদলে যাচ্ছে ঘুষের লেনদেনে

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৬, ২১:১২

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সরকারি ধান সংগ্রহ অভিযানে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও কৃষক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত প্রকৃত কৃষকরা প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে মাথাপিছু ৩ মেট্রিক টন ধান খাদ্য গুদামে বিক্রি করার সুযোগ পাওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

উপজেলা খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় নির্বাচিত ৩০৯ জন কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ও চাল ক্রয়ের অভিযানের আওতায় ৩৬ টাকা কেজি দরে মোট ৯২৩ টন ধান এবং ৩৮ টন চাল সংগ্রহ করার কথা রয়েছে।

কিন্তু ধান-চাল বিক্রিতে ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি খাদ্য গুদামে নির্দিষ্ট অঙ্কের ঘুষ না দিলে কোনোভাবেই ধান বিক্রি করা যায় না। শুধু ঘুষের হয়রানিই নয়, এখানে ঘটেছে নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনাও। লটারিতে নাম ওঠা অনেক সাধারণ কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করে তাদের অজান্তেই ধান বিক্রি দেখিয়ে টাকা তুলে নিচ্ছে একটি চক্র।

উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কৃষক তানভীর জানান, ঘুষের টাকা না দিলে সরকারি খাদ্য গুদামে ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রির কোন সুযোগই নেই। তার কাছ থেকে শ্রমিক মজুরি, অফিস খরচ ও বিভিন্ন খরচের  কথা বলে খাদ্য গুদামের অফিস সহকারী সাদ্দাম হোসেন নিয়েছে ৫ হাজার ৫০০ টাকা।

ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের কৃষক হাফেজ বিল্লাল হোসনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, অফিস খরচ বাবদ তিনি ৬ হাজার টাকা দিয়েছেন।

মতলব উত্তর উপজেলার কৃষি উদ্যোক্তা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো. আতাউর রহমান সরকার বলেন,

উপজেলা কৃষকরা কষ্ট করে ধান উৎপন্ন করে আর ভাগ্যগুণে লটারিতে নাম উঠে। কিন্তু, সেই ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি চলে খাদ্য গুদামে। ঘুষের টাকা না দিলে ভাগ্য টিকে না সরকারি খাদ্য গুদামে। হয়রানি থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়েই ঘুষ দিতে হয় গুদাম কর্মকর্তাকে।

তিনি জানান, অফিস খরচ বাবদ তাকেও ৩ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। কোন উপায় না থাকায় তিনি এই টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

দুর্গাপুর ইউনিয়নের কৃষক সুরুজ আলী মোল্লা জানান, তিনি জানে না কে তার আইডি কার্ড দিয়ে সরকারি গুদামের ধান বিক্রি করেছে। তিনি পরে জানতে পারেন তার আইডি কার্ড দিয়ে গুদামে ধান বিক্রি করা হয়ে গেছে।

মতলব উত্তর উপজেলার খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসমান গনি বলেন, যে টাকাটা নেওয়া হচ্ছে সেটা সরকারের ভ্যাট আইটি ও লেবার খরচ এক্ষেত্রে অফিস সহকারী যদি অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাঁদপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুর রহমান খান জানান, এই অনিয়মের বিষয় নিয়ে অবগত নই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মতলব উত্তর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, লটারি বিষয়টা হচ্ছে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। যেসব অভিযোগ উঠেছে সত্যতা প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এপি