শাহাজাহান খানকে নিয়ে সংসদে অনির্ধারিত বিতর্ক

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:৩২

সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী ও সড়ক পরিবহন নেতা শাজাহান খানকে সড়কে দুর্ঘটনা রোধে সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভাপতি করায় অনির্ধারিত বিতর্ক হয়ে গেল জাতীয় সংসদে। গতকাল সোমবার সংসদে মাগরিবের বিরতির আগে প্রশ্নোত্তর পর্বে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে বিষয়টির অবতারণা করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম। সম্পূরক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বদিকে দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ, শাজাহান খানকে দিয়ে সড়ক নিয়ন্ত্রণ। গতবার শাজাহান খানের একটা হাসি নিয়ে কতকিছু ঘটলো। সেই শাজাহান খানকে প্রধান করে গঠিত কমিটি সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কতটা সক্ষম হবে?’ জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ এখানে ব্যক্তি কোনো বিষয় নয়। আমি দেখব সড়কে শৃঙ্খলা আনয়নে ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কমিটি কি সুপারিশ তৈরি করে।’ পরে ওবায়দুল কাদেরের কাছে সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে সরকার দলীয় এমপি শামীম ওসমান এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘শাজাহান খান একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তার হাসির জন্য ঘটনা ঘটেছে নাকি ঘটনা ঘটানো হয়েছিল, সেটা দেখার বিষয়।’

মাগরিবের বিরতির পর অধিবেশনে কার্যপ্রণালী বিধির ২৭৪ বিধিতে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দিতে ফ্লোর নেন শাজাহান খান। তিনি বলেন, ফখরুল ইমাম মাদক আর সড়ক দুর্ঘটনাকে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছেন। তিনি আমার সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছেন তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। শাজাহান খান বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে চাই- সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালকরাই দায়ী নন। যেখানে চালক দায়ী থাকবে সেখানে চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্য যারা দায়ী থাকবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সুপারিশ প্রণয়নে আমাকে সভাপতি করে যেই কমিটি করা হয়েছে, আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নেব। দুর্ঘটনার হার আরও কমবে। আমি দায়দায়িত্ব নিয়েই কথা বলছি। এ সময় তিনি ফখরুল ইমামের বক্তব্য প্রত্যাহার কিংবা এক্সপাঞ্জের দাবি জানান।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সুপারিশমালা প্রণয়নের জন্য শাজাহান খানকে প্রধান করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবারের বৈঠকে যখন শাজাহান খানের নাম প্রস্তাব করা হয় তখন কেউ কিন্তু বিরোধিতা করেননি। তার নেতৃত্বে আরও ১৪ জন সদস্য রয়েছেন।