কবুতর পালন করে সফল আবু সাইদ

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২১, ২০:৩১

নাটোরের সিংড়া উপজেলার বড় আদিমপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু সাইদ। গ্রামের একজন সফল কৃষক। শুরু করেছিলেন আপেল কুল দিয়ে তারপর মাছ চাষ। পরে ২০১৬ সালের শেষে সখের বশে কবুতর পালন শুরু করেন। শুরুটা ১০ জোড়া কবুতর দিয়ে হলেও এখন তার কবুতরের সংখ্যা সাড়ে ৩০০ জোড়া ছাড়িয়ে গেছে।  খরচ বাদে বর্তমানে তার মাসিক প্রায় এক লক্ষ টাকা। কবুতরের খামারের পাশাপাশি ১৯ বিঘা জমিতে ধানের চাষাবাদ করেন তিনি। এছাড়াও ৫টি পুকুরে মাছ চাষ করেন। বাড়ির আঙিনায় আম, বড়ই, তাল, কলাসহ প্রায় ১৫ প্রজাতির ফল গাছ রয়েছে তার।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ২৩ হাজার টাকায় ১০ জোড়া কবুতর দিয়ে তাঁর খামার শুরু। তারপরে আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি সাইদকে। পাঁচ বছর আগে শুরু করা শখে কবুতর পালন পরিণত হয়েছে এখন পেশায়। তার খামারে কাজ করে দুই যুবক। বেকারত্ব ঘোচাতে সহায়তা করেছেন অন্য বেকার যুবকদেরও। তার খামারে রয়েছে ইন্ডিয়ান ফান্টেল, লাহোর কালো, হলুদ, তুরিবাজ লাল,কালো, এলমন্ড, ইন্ডিয়ান নোটন, দেশি লোটন, বাশিরাজ কোকা, মাক্সি রেচার হুমা, সবজে গিরিবাজ, লাল,সাদা, হলুদ বোম্বাই, আমেরিকান সো কিং, কালদম, মুক্ষি লাল, হলুদ, কালো, সিলভার, কফি, ঝরনা শাটিন, ল্যাভেন্ডার সুয়া চন্দন, শেকড়সহ ৩০ প্রজাতির কবুতর।

আবু সাইদের বসতভিটায় নীর্মিত ৮৪ ফিট লম্বা ও ১৯ ফিট চওড়া কবুতরের এ খামার দেখাশুনা করেন দুজন শ্রমিক। খামার থেকেই বেশি কবুতর বিক্রি হয়, এছাড়াও ঢাকা, গাজীপুর, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও খামারীরা এসে কবুতর ক্রয় করে নিয়ে যায়। তার খামারে কবুতরের সর্বনিম্ন দাম ৩ হাজার টাকা জোড়া ও সর্বোচ্চ দাম ৪০ হাজার টাকা। আবু সাইদের খামার দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে খামার করেছেন একই গ্রামের আবুল হাশেম, পাশের গ্রাম বিয়াশের উজ্জল, সাইফুল ইসলাম, দুলাল, আ. আজিজ, কাউসার আহমেদ ও বুলবুল আহমেদ।

গত রবিবার আবু সাইদের সৌখিন খামার পরিদর্শনে যান সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম সামিরুল ইসলাম, সহকারি কমিশনার (ভূমি) রকিবুল হাসান, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা এস এম খুরসিদ আলম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আল-আমিন সরকার।

খামারী আবু সাইদ জানান, একসময় শুধু শখের বসে পালন করা গেলেও এখন বাণিজ্যিকভাবে এই কবুতর পালন করা সম্ভব। বেকার যুবকরা কবুতর পালন করে স্বর্নিভর হতে পারে। সবসময় এসব প্রজাতির চাহিদা থাকে। সরকারি সহযোগিতা পেলে কবুতর রফতানি করে বছরে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা এস এম খুরসিদ আলম জানান, আবু সাইদ একজন সফল খামারি। আমি তাঁর খামার পরিদর্শন করেছি, খুবই ভাল লেগেছে। এছাড়াও এ উপজেলায় শতাধিক কবুতর খামারি রয়েছে। তাদেরকে আমরা পরামর্শ দিয়ে থাকি। খামারীরা চাইলে আমরা সকল প্রকার পরামর্শ ও সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম সামিরুল ইসলাম বলেন, আমি নিজেও একজন কবুতর প্রেমী। ২০০০ সাল থেকে কবুতর পালন করি। আবু সাইদের খামার দেখে আমি মুগ্ধ। এটি সিংড়া উপজেলার সবচেয়ে বড় কবুতর খামার। বর্তমানে কবুতর পালন অপার সম্ভাবনার, এর মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা যায়।

ইত্তেফাক/ ইআ