উইকেট না বুঝেই একাদশ সাজাচ্ছে বাংলাদেশ!

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২১, ২১:১৭

প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আসা বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিরা বলে থাকেন, উইকেট দেখে একাদশ চূড়ান্ত করা হবে। ধরে নেওয়া যাক, অন্য সব দলের মতোই উইকেট অনুযায়ী একাদশ গড়ে থাকে বাংলাদেশ। উইকেটের পূর্বানুমানের ছাপ থাকে ম্যাচের একাদশে।

কিন্তু বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট উইকেট কতটা পড়তে পারে, তথা উইকেটের আচরণ কতটা বুঝতে পারে, বলা কঠিন। উইকেট সম্পর্কে তাদের মূল্যায়ন নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

ছবি: বিসিবি

মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) আবুধাবিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের একাদশ দেখার পর এমন সন্দেহের অবতারণা বেশ যৌক্তিক হয়ে পড়েছে। ম্যাচের গভীরে চোখ রাখলেই যেটি স্পষ্ট হয়ে যায়।

স্পিনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আটকানোর ছকটা হয়তো ডমিঙ্গো-মাহমুদউল্লাহরা আগেই এঁকে রেখেছিলেন। ইনজুরিতে বাদ পড়া সাকিবের সঙ্গে পেসার মুস্তাফিজের বাদ পড়াটা অনুমিত ছিল। একাদশে ফিরেন নাসুম ও প্রথমবার সুযোগ পান শামীম পাটোয়ারি। পেসার মাত্র দু'জন তাসকিন ও শরীফুল। তৃতীয় পেসার সৌম্য। স্পিনে নাসুম, মেহেদী ছিলেন। সঙ্গে আফিফ, শামীম, মাহমুদউল্লাহও হাত ঘোরাতে পারেন।

উইকেটে পেস মুভমেন্ট ভালো ছিল। ছবি: বিসিবি

অথচ উইকেট ছিল কিছুটা পেস বোলিং সহায়ক। সিম মুভমেন্ট ছিল। ১৮.২ ওভারে ৮৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। যেখানে প্রোটিয়া পেসাররাই নিয়েছেন ৭ উইকেট। রাবাদা, নর্টজে ৩টি করে, প্রিটোরিয়াস ১টি উইকেট নেন। স্পিনার শামসি পান ১ উইকেট। সিমে হিট করে মুভমেন্ট পেয়েছেন তাসকিনও। ১৩.৩ ওভারে ৪ উইকেটে ৮৬ রান তুলে ৬ উইকেটের জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশের দুই পেসার ৮ ওভার, সৌম্য ১ ওভার বোলিং করেন। দুই স্পিনার করেছেন ৪.৩ ওভার। তাসকিন একাই নেন ১৮ রানে ২ উইকেট।

একাদশ গড়ায় ভুল, উইকেটের আচরণ পড়তে না পারার বিষয়টা টিম ম্যানেজমেন্টের ওপরই বর্তায়। হারের পর সংবাদ সম্মেলনে আসা তাসকিনও তাদের দিকেই বল ঠেলে দিলেন। ডানহাতি এ পেসার বলেছেন, ‘আসলে দেখেন সেরা একাদশ সাজানো আমার দায়িত্বে নেই। আমাদের যে দল দেওয়া হয় সেটা নিয়েই লড়াই করতে হয়। টিম সাজানো টিম ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার। যে টিম পাই সেটা নিয়েই আমরা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি।’

আবারও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ লিটন দাস। ছবি: বিসিবি

বাংলাদেশ একাদশে কমিয়েছে পেসার। অথচ উইকেট বলছিল, তিন পেসার রাখা দরকার ছিল একাদশে। উইকেট অনুযায়ী আরও ৩০-৩৫ রানেই লড়াই জমানো যেত মনে করেন তাসকিন। তিনি বলেছেন, ‘আজকে (মঙ্গলবার) মনে হচ্ছিল ১২-১২৫ রান করলে চিত্রটা অন্যরকম হতে পারতো। বাকি ম্যাচগুলোর তুলনায় আজকের উইকেট একটু ভিন্ন মনে হয়েছে। বল একটু সিমিং করছিল। দ্বিতীয় ইনিংসেও মুভমেন্ট ছিল। ৮৫ রান করতে ওদের ১৪ ওভার লেগেছে। একটু ভালো ব্যাটিং করলে চিত্রটা অন্যরকম হতে পারতো।’

বিবর্ণ বিশ্বকাপের শেষ দিকে চলে এসেছে বাংলাদেশ। তাসকিনের মতে, রেজাল্ট যা হয়েছে দলটা এত খারাপ নয়। দল হিসেবে সামর্থ্যের ধারে কাছেও খেলতে পারেননি, তাই এত বাজে কাটলো বিশ্বকাপ।

ইত্তেফাক/টিএ