বিশ্বকাপে বাটলারের ইনিংসই ইংল্যান্ডের সেরা!

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২১, ২১:৪৭

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোন ইংলিশ ব্যাটারের ইনিংসটি সেরা? অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩২ বলে জস বাটলারের ৭১ রানের ধুন্ধুমার ইনিংসটির পর ওঠে এই প্রশ্ন। তার ৪৮ ঘন্টা পর বাটলার নিজেই সেই প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর দিয়ে দিলেন।

এমনও ম্যাচ আসবে যেখানে বাটলারের থেকে সহজেই রান তুলতে পারবেন ইংলিশ ব্যাটাররা।  কিন্তু শারজায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাটলার যেভাবে খেলেছেন এই সক্ষমতা বোধ হয় বর্তমান ইংলিশ ব্যাটারদের অন্য কারোর মধ্যেই নেই।

বিশ্বকাপে সুপার টুয়েলভ রাউন্ডের বেশির ভাগ ম্যাচেরই টস দেখে পরিণত আন্দাজ করা সহজ  ছিল। কিন্তু এই ম্যাচের গতি নির্ধারিত করেছে বাটলার নিজেই।

বাটলারের ৬৭ বলে ১০১ রানের ইনিংসটি বোঝার জন্য শারজার কন্ডিশন বোঝা প্রয়োজন। এই বছরের শুরুর দিকে পুননির্মানের পর এই ভেন্যুর উইকেট গুলো মন্থর ও নীচু বাউন্সের হয়ে গেছে।  আটদিনে এই উইকেটটিতে তিনবার খেলা হয়েছে  এবং শিশিরের প্রভাব পড়ার আগে এর পিচ্ছিল প্রকৃতির কারণে টাইমিং প্রায় অসম্ভব ছিল।

বাটলার ইনিংসের শুরুটাই করেন এমন শট দিয়ে, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ওপেন করার পর থেকে তার ট্রেডমার্ক শটে পরিণত হয়। দুশমন্থ চামিরার বল কাভারে ব্যাকফুট পাঞ্চ করে দৌড়ে তিনটি রান তুলে নেন তিনি। তারপরও শুরুতে সংগ্রাম করতে হয়েছে তাকে।

পাওয়ার প্লেতে ইংল্যান্ড তিন উইকেট হারানোর পর বাটলার বুঝে নিয়েছিলেন তাকেও চাপের মধ্যে ডুব দিতে হবে। তাই ভানিন্দু হাসারাঙ্গা ও রহস্য স্পিনার মাহিশ থিকশানাকে সতর্কতার সঙ্গেই খেলেন তিনি। ইনিংসের অর্ধেক শেষে তার রান ছিল ৩০ বলে ২৪।
টি-টোয়েন্টি ওপেনারদের এক অবমূল্যায়িত দৃশ্যতা  হলো শুরুতেই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার সক্ষমতা। এই টুর্নামেন্টে প্রমাণিত হয়েছে সিম মুভমেন্টের কারণে প্রতিনিয়ত আগে ব্যাট করা দলগুলো দ্রুত তাদের ওপেনারদের হারাচ্ছে। যার কারণে তাড়া করতে নামা দলগুলো বেশ সুবিধাই পাচ্ছে।

বাটলার আউট না হলেও ভুগছিলেন বেশ। তাই ইংল্যান্ডের সহকারী কোচ পল কলিংউড বলছিলেন  ১১০ রানই এখানে লড়াই করার মতো পুজি। আর সেখানে বাটলারই কি না করলেন ১০১ রান।  ইনিংসের দ্বিতীয়ভাগে লঙ্কান বোলারদের ওপর তান্ডব চালান ডানহাতি এই ব্যাটার।

শেষ ওভারে একটি ভুলের কারণে সেঞ্চুরিও মিস করতে পারতেন। কিন্তু স্কয়ার লেগে থাকা ফিল্ডার পাথুম নিসাঙ্কা বলের নাগাল পাননি। সেই স্কয়ার লেগ দিয়ে শেষ বলে দুর্দান্ত ছক্কায় তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন তিনি। তাতে চলতি বিশ্বকাপ পায় তার প্রথম সেঞ্চুরিয়ান। একই সঙ্গে ইংল্যান্ডও পেয়ে যায় তিন ফরম্যাটে সেঞ্চুরি করা তাদের প্রথম পুরুষ ব্যাটার।

সেঞ্চুরি পেয়ে বাটলার বলেন, 'আমার মনে ধৈর্য্য ধরে থাকাটা গুরুত্বপুর্ণ ছিল। শুরুতে খুব কঠিন লাগছিল। একটা সময় আমরা চিন্তা করেছিলাম ১২০ রান হলে ভালো হবে। কিন্তু তারপর আমরা চলতেই থাকি। সেঞ্চুরি পেয়ে ভালো লাগছে।'

ইত্তেফাক/টিএ