তৃতীয় ধাপে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ১০টি ইউপিতে নির্বাচন আগামী ২৮ নভেম্বর। এর মধ্যে একটি ইউপিতে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন। আর বাকী নয়টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী থাকায় অস্বস্তিতে আছেন দলীয় প্রার্থীরা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রায়পুর উপজেলায় দলের পক্ষ থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য বলা হলেও তাতে সাড়া মেলেনি। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি নাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ছয় ইউনিয়নেই প্রার্থী আছে। বিএনপি এই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও তিনটি ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।
জামায়াত ইসলামের নিবন্ধন না থাকায় প্রথমবারের মতো স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে নাগকির ফোরাম থেকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ৩টি ইউনিয়নের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এতে রায়পুরের ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা ঘটাতে পারে বলে জানান আওয়ামীলীগ প্রার্থীরা।
উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী হয়েছেন রশিদ মামুন। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপি নেতা হেফজুল্লাহ গুনু। দক্ষিন চর আবাবিল ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী হয়েছেন নুরে আলম জিকু হাওলাদার। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান নাছির আহম্মেদ। এখানে জাতীয় পার্টির নাঙ্গল প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন হাসানুজ্জামন।
একই ভাবে ৯টি ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ২২ জন, বিএনপির ৩ জন, জামায়াতের ৩ জন, জাতীয় পার্টির ৬ জন স্বতন্ত্রসহ মোট চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী রয়েছে ৫১ জন। এদিকে সংরক্ষিত নারী ১০০ জন ও পুরুষ ইউপি সদস্য ৪৬০ জন প্রার্থী রয়েছে ১০টি ইউপিতে।
এছাড়া চরবংশী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আবু ছালে মিন্টু নৌকার প্রার্থী হওয়ায় এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ মোলা। এই ইউনিয়নে বিএনপির কোনো নেতা প্রার্থী হননি।
ইউনিয়ন বিএনপির এক দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ভোটে তাঁরা বিদ্রোহী প্রার্থীর পাশেই থাকবেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খোকন বলেন, আমরা বিদ্রোহীদের ব্যাপারে আরেকটু ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে চাই। ভোটের এখনো বেশ কয়েক দিন বাকি। চেষ্টা করছি, বুঝিয়ে সবাইকে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করাতে।
রায়পুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হারুন মোল্লা বলেন, ভোট নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এবার উপজেলার কোনো ইউনিয়নে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ হবে না বলে নির্দেশনা রয়েছে।
ইত্তেফাক/কেএইচ
