ক্রিকেটের ক্ষুদে সংস্করণের বিশ্বকাপে ঠিক আগের আসরের শেষ ম্যাচে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৭০ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ দল। ১৫.৪ ওভারের ওই ইনিংস দিয়েই শেষ হয়েছিল ব্যর্থ মিশন। মাঝে পাঁচ বছর কেটে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশের ভাগ্য বদল হয়নি। বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে কিউইদের প্রতিবেশি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৭৩ রানে অলআউট হলো বাংলাদেশ। আগের বারের চেয়ে ৩ রান বেশি। তবে এবার ইনিংসটা স্থায়ী হয়েছে ১৫ ওভার।
আট উইকেটের বড় হারে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ব্যর্থতার গল্প শেষ হলো। এমন বিবর্ণ বিশ্বকাপ কেউই কল্পনা করেননি। সুপার টুয়েলভ পর্বে জয়ের খরা ১৪ বছর পরেও কাটানো গেল না। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হওয়া অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও জানালেন, তিনিও কারণ খুঁজছেন কেন এমন হলো? ধ্বংস স্তুপে ডুবে যাওয়ার কারণ জানা নেই তারও। তবে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে কিছুটা তোপ তাকেও সামলাতে হয়েছে।
লেজে-গোবরে পারফরম্যান্স নিয়ে মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘পারফরম্যান্স তো অবশ্যই আমরা ভালো করতে পারিনি এই বিশ্বকাপে। আমি নিজেও খুঁজছি যে কি কারণে আমরা ভালো করতে পারছি না। এক সঙ্গে বসেছি, কথা বলেছি এবং খোঁজার চেষ্টা করেছি যে কোথায় ঘাটতি আছে। শ্রীলঙ্কা ও উইন্ডিজের ম্যাচ বাদে পুরো আসরটাই খারাপ গেলো। কিছু কিছু প্রশ্নের আমি নিজেও জানি না। দল হিসেবে এটাও খুব হতাশাজনক। দেশে ফিরে দেখি কি হয়।’
ব্যর্থ মিশনের পর নেতৃত্ব ছাড়ার চিন্তা করছেন না মাহমুদউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘এটা নির্ভর করে ক্রিকেট বোর্ডের ওপর। আমার হাতে নাই এটা। আমার তরফ থেকে আমি চেষ্টা করেছি এই দলটাকে আগলে রাখতে, ভালো পারফরম্যান্স আদায় করার জন্য। হয়তো আমার নেতৃত্বে ঘাটতি ছিল, তাই ভালো পারফরম্যান্স আদায় করতে পারিনি। তবে পদত্যাগের বিষয়টি ক্রিকেট বোর্ডের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। এটা আমার ওপর নেই।’ টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরে যাওয়ার ভাবনাও নেই তার। বলেছেন, ‘এই মুহুর্তে আমি ওইরকম কোনো চিন্তা করছি না (অবসর)।’
অধিনায়কের বিশ্বাস শ্রীলঙ্কার সঙ্গে জিততে পারলে দৃশ্যপট ভিন্ন হতে পারতো। মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘শ্রীলঙ্কার সঙ্গে জিতলে হয়তো তা পেতাম। কিন্তু এখন তো আর এসব কথা বলেও লাভ নেই। বিশেষ করে আমরা যেভাবে ব্যাটিং করেছি তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো না।’
ইত্তেফাক/টিএ
