অমর একুশে বইমেলা এবং কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা থেকে প্রকাশিত হচ্ছে আশিক মুস্তাফার বই। অমর একুশে বইমেলায় পাঁচটি বই প্রকাশিত হচ্ছে তার। এর মধ্যে একেবারে ছোটদের তিনটি। নাম-আঙুলেরা পাঁচ বোন, বৃষ্টিবু এবং হাতির শুঁড়ে বৃষ্টি নামে। আর সম্পাদিত দুটি ভূত সংকলন। ছোটদের বইগুলো প্রকাশ করেছে বাংলা প্রকাশ ও শিশু গ্রন্থ কুটির। আর ভূত সংকলন দুটি প্রকাশ করছে কথা প্রকাশ। এছাড়া কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় ইমাজিনেশন অ্যান্ড রিয়ালিটি ইন বেঙ্গলি চিলড্রেনস লিটারেচর শিরোনামের একটি গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশিত হচ্ছে। বইটি প্রকাশ করছে কগনিশন পাবলিকেশন্স।
কলকাতা থেকে প্রকাশিত বই সম্পর্কে আশিক মুস্তাফা বলেন, ‘এটি একটি গবেষণাধর্মী বই। বাংলা শিশুসাহিত্যের ২০২ বছরের যাত্রা এবং তাতে ছড়িয়ে থাকা স্বপ্ন ও তার বাস্তবতা নিয়ে গবেষণাটি করেছি টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সের জন্য। ২০১৫ সালে জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে এই গবেষণাপত্র উপস্থাপনের সুযোগ করে দিয়েছিলো আন্তর্জাতিক বঙ্গবিদ্যা সম্মেলন। বঙ্গবিদ্যা সম্মেলনের হাত ধরে এটি নিয়ে প্রায় ছয় মাস কাজ করেছি। সংগ্রহ করেছি বাংলা শিশুসাহিত্যসহ বিশ্ব শিশুসাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। নানা তথ্যের হাত ধরে বাংলা শিশুসাহিত্যের স্বপ্ন ও বাস্তবতা নিয়ে কাজটি করার চেষ্টা করেছি। পরবর্তীতে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. সিনকিচি তানিগুচি গবেষণাপত্রের রিভিউ করে দিয়ে আমাকে সহযোগীতা করেছেন। এটি পড়ে মূল্যায়ন করেছেন লেখক সেলিনা হোসেন এবং শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি রফিকউল্লাহ খান স্যার (উপাচার্য শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়), ড. অমিতাভ চক্রবর্তী (দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়), আহমাদ মাযহার, খন্দকার মাহমুদুল হাসান, আলী ইমাম এবং প্রিয় বড় ভাই রুদ্র আরিফ, রথো রাফি ও আবু সাইদ তুলুর প্রতি। চমৎকার প্রচ্ছদ করে দিয়েছেন কাছের বড় ভাই রজত। এই কাজের ক্ষেত্রে আমাকে আরও সহযোগীতা করেছেন মাহফুজুর রহমান মানিক, কগনিশন পাবলিকেশন্স প্রকাশক অরেন্স মহালদারসহ আরও অনেকে। এই গ্রন্থে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি বাংলা শিশুসাহিত্যের পাতায় পাতায় ছড়ানো আলোর নাচন। যাদের কল্যাণে বাংলা শিশুসাহিত্য শুঁয়োপোকার মতো অবস্থার রূপান্তর ঘটিয়ে প্রজাপতির বর্ণিল ডানায় পরিণত হয়েছে; তুলে ধরার চেষ্টা করেছি তাদের জার্নিটাও। জানি না, পাঠকের কেমন লাগবে!’
এর আগেও ২০১৭ সালে কলকাতার লালমাটি প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছিল আশিক মুস্তাফার ছোট্ট একটা মা। কলকাতা বইমেলায় ৬ ফেব্রুয়ারি তার বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনার তৗফিক হাসানসহ আরও অনেকে।
আরও পড়ুন: নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিয়েবাড়িতে ট্রাক, নিহত ১৩
তবে দুই বাংলার বইমেলার মধ্যে আশিক অমর একুশে বইমেলাকেই শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। তার কাছে একুশে বইমেলা মানেই অন্য কিছু। শ্রদ্ধা আর আবেগের অনন্য এক মাধ্যম। লেখালেখির পরিকল্পনা নিয়ে আশিক বলেন, ‘নিজের ভালো লাগে তাই লিখি। এই কাজটা ভালো লাগার জায়গা থেকেই করে যেতে চাই।’
ইত্তেফাক/কেকে
