বাংলাদেশের সর্বনাশ হলেও ডমিঙ্গোর যেন কিছুই হয়নি

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২১, ১৪:১৩

২০১৯ সালে রাসেল ডমিঙ্গো দায়িত্ব গ্রহন করেন। দায়িত্ব গ্রহনের শুরুতেই ঘরের মাটিতে কাবুলিওয়ালার দেশ আফগানিস্তানের বিপক্ষে হেরে যায় বাংলাদেশ। যারা ক্রিকেটের মাঠে ভালো করে হাঁটতেও শেখেনি তখন। তার আমলে ১০টা টেস্ট ম্যাচ খেলে ৭টিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ২টা টেস্ট ম্যাচ জিতেছে আর ১টা ড্র করেছে। এই দুইটা জয়ের মধ্যে প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে। আর ড্র হয়েছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ভারত, পাকিস্তান,ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হেরেছে।

ওয়ানডেতে ১৫ ম্যাচে ১১টি জিতেছে বাংলাদেশ। ৬টা জয় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ৩ জয় দুর্বল ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ২টা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ডমিঙ্গোর সময় বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচ খেলেছে ৩৩টি। ১৭টায় জয় আর ১৬টা হার। এর মধ্যে ঘরের মাঠে মনের মতো পিচ বানিয়ে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডকে এনে সিরিজ জিতে র‌্যাংকিং বাড়িয়ে নিলো।

আর তাতে লাভের লাভ কি হলো? টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গিয়ে প্রথম পর্বের দেয়াল টপকাতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সেরা টুয়েলভে উঠলেও একের পর এক ম্যাচ হারতে থাকলো। হারতে হারতে সব শেষ হয়ে গেলো। খেলোয়াড়রা সামলোচকদের কাছে রক্তাক্ত হলেন। আর কোচ? যার দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি, হেড কোচ হিসেবে পিচ দেখবেন, পিচের ধরণ দেখে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবেন এবং একাদশ নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবেন। এসব গুরুত্বপুর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর চিন্তা-ভাবনার প্রতিফলন ঘটবে মাঠে। বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স দেখে কি সেটা বুঝা গেছে। বাংলাদেশের সর্বনাশ হলেও রাসেল ডমিঙ্গোর যেন কিছুই হয়নি। বাংলার ক্রিকেটারদের মুখে কুলুপ পড়লেও রাসেল ডমিঙ্গোর মুখে হাসি লেগেই আছে। নিশ্চিন্ত আছেন ডমিঙ্গো।

স্পিনার নাসুম আহমেদ ও রাসেল ডমিঙ্গো

রব উঠছে এই ক্রিকেটারদের দিয়ে হবে না। নতুন প্রজন্ম লাগবে। যে দলটা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তাদেরকে দলে নিলে আগামী দিনের জন্য তৈরি করা যাবে। মুশফিক, সৌম্য, লিটন, মাহমুদউল্লাহ, তাসকিন, মুস্তাফিজদের যখন এই পরিস্থিতি, ঠিক তখন কোচ ডমিঙ্গোর চাকরিটা পাকা হয়ে গেলো। ব্যর্থতার দায় খেলোয়াড়দের হলে কোচের কেন দায় থাকবে না? নতুন করে ডমিঙ্গোকে দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হলো। পারফরম্যান্স যাচ্ছেতাই হওয়ায় যেখানে চাকরি যাওয়ার কথা, সেখানে উল্টো বিশ্বকাপের মঞ্চেই কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর চাকরি নিশ্চিত হয়ে গেলো আরও বেশি বেতনে।

তাছাড়া ডমিঙ্গোকে বিদায় দিতে হলে পুরো বছরের বেতন দিয়ে দিতে হবে। বোর্ড হতে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে ডমিঙ্গোর চাকরির কথা না বলেও কত টাকা বেতন, কতো টাকা আয়কর দিতে হবে, তার সব খবরই বাইরে চলে এসেছে। মাশরাফি বলছিলেন, কোচ সম্পর্কে। তিনি যেসব সমস্যাগুলো তুলে ধরেছিলেন সেগুলোর একটাও খতিয়ে দেখা হয়নি। ব্যর্থতার দায়ে ফুটবলের বড় বড় কোচকে বিদায় নিতে হয়েছে।

ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান বলছেন, ‘বার্সেলোনা তাদের কোচ কোম্যানকে বাদ দিয়েছে। জোসে মরিনহো পোর্তকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। ইন্টার মিলানকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। চেলসিকে ৫০ বছর পর ট্রফি দিয়েছেন। বার্সেলোনার কাছ হতে ট্রফি কেড়ে নিয়েছেন মরিনহো। তার পরও এই মরিনহোকে বহিস্কার করেছিল চেলসি, ম্যানচেষ্টার ও টটেনহ্যাম। এসব ক্লাব হতে তিনি বহিস্কার হয়েছিলেন কেন? ডমিঙ্গোর সিভিতে কী আছে সেটা বাংলাদেশের বিষয় না। উনি বাংলাদেশকে কী দিয়েছেন। তাহলে ঠিক কী কারণে তাকে রাখার ভাবনা।’

ইত্তেফাক/টিএ