ইবিতে লাগামছাড়া দামে মানহীন খাবার

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২২, ২১:০৭

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলগুলোতে পরিবেশন করা হচ্ছে নিম্নমানের খাবার। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়েই বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দোকানে খাবার খেতে হচ্ছে। তবে দোকানগুলোতে খাবারের মান না বাড়লেও নেওয়া হচ্ছে লাগামছাড়া দাম।  

জানা যায়, হলের ডাইনিং এ প্রতিদিন দুপুর ও রাতে একই ধরনের মাছ, মাংস সরবরাহ করা হয়। যা পরিমাণে খুবই কম। শিক্ষার্থীদের চাহিদা মেটাতে পারে না। নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করায় রয়েছে অপুষ্টিসহ নানা রোগের ঝুঁকি। এছাড়া শুক্রবার হলে উন্নত মানের খাবারের কথা বলে ভাতের চালের পোলাও এবং ছোটো এক টুকরো মুরগি অথবা গরুর মাংস দিয়ে নেওয়া হয় গলাকাটা দাম।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সব ধরনের খাবারে গড়ে ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। পূর্বে ক্যাম্পাসের দোকানগুলোতে ১ পিস মুরগির মাংস অথবা মাছ ও ভাত ছিল ৪০ টাকা সেটা এখন ৫০ টাকা, ক্ষেত্রে বিশেষ ৬০ টাকা। ১ পিস গরুর মাংস ও ভাতের দাম নেয়া হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা। হোটেলগুলোতে নোংরা ও খোলা পরিবেশে খাবার রান্না, খাবারের ওপর বসে মশা-মাছি। আর হলে রান্না করা খাবারে পাথরের টুকরা, চুলসহ বিভিন্ন পোকামাকড়, শামুক পাওয়ার অভিযোগ তো রয়েছেই। 

তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত বলেন, হলে খাবারের দুরবস্থা। হোটেলগুলোতে দাম বাড়ানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমরা মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা ও একটি নির্দিষ্ট মূল্য তালিকা তৈরি করে দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

দাম বৃদ্ধির বিষয়ে একাধিক হোটেল মালিক বলেন, করোনায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা খাবারের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। তবে খাবারের নিম্নমান ও পোকামাকড় পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ডাইনিং ম্যানেজারেরা। 

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, আমরা ইতিমধ্যে প্রভোস্টদের সঙ্গে কথা বলেছি যাতে হলে খাবারের মান ভালো করা হয়। এছাড়া বাইরের দোকানগুলোতে যাতে শিক্ষার্থীদের কাছে অতিরিক্ত দাম না নেওয়া হয় এজন্য মনিটরিং করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হবে। 

ইত্তেফাক/এমআর