শীতের চাদরে ঢাকা পড়ছে উত্তরের তেঁতুলিয়া

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২১, ১৫:০৬

তেঁতুলিয়া হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতের নিকটবর্তী হওয়ায় দেশের অন্যান্য জায়গার তুলনায় এখানে আগেবাগে নামে শীত। এবারও ব্যতিক্রম নয়। বাতাসের আর্দ্রতার সঙ্গে বাড়ছে হিমেল ঠাণ্ডা পরশ। সন্ধ্যা নামতেই শীতের চাদরে ঢাকা পড়ছে জনপদ। দিনের বেলায় গরম অনুভূত হলেও বিকেল গড়লেই উত্তরের হিমেল হাওয়ায় শুরু হয় শীত।

জানা যায়, গভীর রাতে ঘন কুয়াশা আর শীতল শিশিরে পরশে লেপকাঁথা শরীরে মুড়িয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে স্থানিয়রা। ভোর সকালে তাদের গায়ে থাকে গরম কাপড়। রাস্তায় চলাচলকারী মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনকে হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। গত কয়েকদিন ধরেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে তেঁতুলিয়ায়। শনিবার সকাল নয়টায় ১৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অফিস। 

স্থানীয়রা জানান, দিনের বেলা বেশ গরম থাকলেও সন্ধ্যা নামার পর থেকেই ঠাণ্ডা অনুভব হচ্ছে। রাতে টিনের চালে টুপটুপ করে শিশির পড়ার শব্দ শোনা যায়। সমতলের চা বাগানের গজে উঠা নতুন কচি পাতা আর আমন ধানের শীষে বিন্দু বিন্দু কুয়াশা জমতে দেখা যায়। সাত সকালে ঘাসের ওপর দিয়ে হাঁটাচলা করলে ভিজে যায় কাপড়-চোপর।

হাসান আলী, আশিক হোসেন, আমির আলীসহ কয়েকজন চা শ্রমিক জানান, আমরা ভোরে ভোরে চা পাতা তোলার কাজ করি। পাতা কাটতে গেলে কাপড় ভিজে গিয়ে বেশ ঠাণ্ডা লাগা শুরু করে। পাতায় পাতায় শিশির, যেন বরফ মনে হয়। শীত আইস্যা গেছে।

উপজেলা সদর ইউনিয়নের মমিনপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর শীতটা একটু বেশি মনে হচ্ছে। এখন যারা আমরা বয়স্ক, তাদের জন্য শীতটা অভিশাপেরও বটে।

বাজারের লেপ-তোষকের দোকানগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগর ও দোকানিরা। শীতের গরম কাপড় দোকান বসছে ফুটপাতগুলোতেও। ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে গরম কাপড় কিনতে দেখা যায়। 

শীতের আগমনে বাজারে উঠছে নানান শীতকালীন তরতজা শাকসবজি। ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, ধনিয়া শাক, লাউ শাক, লালশাক, পালংশাক, মুলা, শিম, শালগম, টমেটো, মটরশুঁটি, গাজরসহ বেশ কিছু সবজি বাজারে উঠতে শুরু করেছে। এদিকে হেমন্তের শীতের আবহে পাকতে শুরু করেছে নবান্নের ধান। কদিন পরই শুরু হবে ধান কাটার নবান্ন উৎসব। 

এদিকে শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে শীতজনিত নানান ব্যাধি। হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলোতে জ্বর-সর্দি, কাশিসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগীর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শীতে করোনার প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকায় চিকিৎসকরা রোগীদের স্বাস্থ্যবিধি মানার পরামর্শ দিচ্ছেন।

উপজেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ জানান, শীত নামতে শুরু করেছে। শনিবার (৬ নভেম্বর) সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গত প্রায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে। নভেম্বরের শেষের দিকে শীতের তীব্রতা বাড়বে বলে জানান এ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ চন্দ্র সাহা জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই কম্বল বিতরণের প্রস্তুতি নিয়েছি ও বিতরণও করেছি। আর আমাদের নিকট যথার্থ শীতের কাপড় মজুদ রয়েছে। 

 

 

ইত্তেফাক/ ইআ