অনেকেই তাকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় বলে থাকেন। আর কেনইবা বলবেন না? ক্রিকেটের এই ক্ষুদ্র সংস্করণটি আসার পর থেকেই রাজত্ব করছেন ক্রিস গেইল। হোক সেটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ কিংবা ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। সব জায়গায় তার চাহিদা তুঙ্গে। যদিও বয়স বাড়ায় সাম্প্রতিক সময়ে তার ব্যাটে ঠিক আগের মতো আর ধার নেই। যা চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বজায় আছে। সম্ভবত শেষ ম্যাচটিও খেলে ফেলেছেন।
শনিবার (৬ নভেম্বর) আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে নিজেদের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে নেমেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমেছে ক্যারিবিয়ানরা। ওপেনিংয়ে নেমে মাত্র ১৫ রান করেই আউট হয়ে যান ক্রিস গেইল। এর পরই তাকে অভিবাদন জানিয়েছেন সতীর্থরা। তিনি নিজেও প্যাভিলিয়নে ফেরার পথে ব্যাট উঁচু করে মাঠ ছেড়েছেন। যদিও এখনো বিদায় বলেননি। কিন্তু অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে সম্ভবত এটাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার শেষ ম্যাচ।
ক্রিস গেইল নিজেকে ‘ইউনিভার্স বস’ বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। মাঠেও অসংখ্যবার সেটির স্বপক্ষে প্রমাণ দিয়েছেন। তার ব্যাটের সামনে বল করতে অনেক বোলারই সাহস হারিয়ে ফেলেন। মানেন না ক্রিকেটের কোনো ব্যাকরণও। সব ধরনের বলেই ছক্কা মারার অনন্য দক্ষতা রয়েছে তার। তাইতো বিশ্বের সব টি-টোয়েন্টি লিগে সবার আগে তার ডাক পড়ে।
ওয়ানডে ও টেস্ট ক্রিকেটকে অনেক আগেই বিদায় বলে দিয়েছেন। এবার হয়তো টি-টোয়েন্টি থেকেও বলবেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ক্রিস গেইল টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন ১০৩টি। ১৮২ ইনিংসে ৪২.১৯ গড়ে রান করেছেন ৭২১৫। এর মধ্যে ট্রিপল সেঞ্চুরি ২টি, ডাবল সেঞ্চুরি একটি ও সেঞ্চুরি হাকিয়েছেন ১৫টি। বোলিংয়ে উইকেট নিয়েছেন ৭৩টি। যার মধ্যে আবার ৫ উইকেট শিকার করেছেন দুইবার।
ওয়ানডেতে ৩০১ ম্যাচ খেলে ৩৭.৭ গড়ে রান করেছেন ১০৪৮০। এর মধ্যে একটি ডাবল সেঞ্চুরি ও ২৫টি সেঞ্চুরি রয়েছে। বোলিংয়ে একবার পাঁচ উইকেটসহ মোট উইকেট নিয়েছেন ১৬৭টি।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ৭৯টি। ২৭.৯৩ গড়ে রান করেছেন ১৮৯৯ এবং উইকেট নিয়েছেন ১৯টি।
ইত্তেফাক/টিএ
