বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৩ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

অটোরিকশাচালক হত্যা: যেভাবে ধরা পড়লো ৩ আসামি 

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২১, ১৫:১৩

রাজশাহী মহানগরীতে অটোরিকশা চালককে গলাকেটে হত্যার পর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ  সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু, ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইলফোন ও অটোরিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (৭ নভেম্বর) নিজ দপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংকালে এই তথ্য জানান রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মো. আবু কালাম সিদ্দিক। 

গ্রেফতার আসামিরা হলো জেলার চারঘাট মিয়াপাড়ার মো. রবিউল ইসলামের ছেলে মো. আল-আমিন (২১), বাঘা থানার মালি আনদাহোর নূর ইসলামের ছেলে মো. জনি (২১) ও নাটোরের লালপুর থানার মহরকয়ার মো. দিরাজ মন্ডলের ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম (৩৫)।  

আরএমপি কমিশনার জানান, গত ৬ অক্টোবর দিবাগত রাত ১ টায় নগরীর সাগরপাড়া নেসকো অফিসের গলির ড্রেনে পড়ে থাকা একটি লাশ উদ্ধার করে। এরপর মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির সময় লাশের পকেটে থাকা মোবাইলফোন নম্বরের সূত্র ধরে মৃত ব্যক্তির নাম আব্দুল কাদের (৫৫) বলে জানা যায়। তিনি শ্রীরামপুর রাজপাড়ার মৃত কবেজ প্রামাণিকের ছেলে। এ ঘটনায় আব্দুল কাদেরের বড় ছেলে সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, আরএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তায় আরএমপি অপারেশন কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টারের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার আসামিদের শনাক্ত করা হয়। এরপর ৬ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুসহ মূল অভিযুক্ত আল-আমিনকে (২১) চারঘাট থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আল-আমিনের দেওয়া তথ্য মতে অন্য আসামি মো. জনিকে (২১) বাঘা থেকে এবং চোরাই অটোরিকশা কেনার অভিযোগে নাটোরের লালপুর  থেকে অটোরিকশা গ্যারেজ মালিক মো. আরিফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা পুলিশকে জানায়, ইতোপূর্বে আল-আমিন ও কাউসার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে কাউসার হাতেনাতে আটক হয়। আর আল-আমিন পালিয়ে যায়। সেখানে উপস্থিত লোকজন কাউসারকে গণধোলাই দিয়ে চারঘাট থানা পুলিশে সোপর্দ করে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে কাউসারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর কাউসার ও আল-আমিন ওই জরিমানার টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল থেকে ৬ অক্টোবর রাত ১২টায় আব্দুল কাদেরের অটোরিকশা ভাড়া করে। তারা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘোরার একপর্যায়ে নির্জন এলাকায় চাকু দিয়ে গলাকেটে আব্দুল কাদেরকে হত্যা করে লাশ সাগরপাড়া নেসকো অফিসের গলির ড্রেনে ফেলে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর অটোরিকশাটি আসামি আরিফুলের কাছে ২৪ হাজার টাকায় বিক্রি করে। আরিফুল নগদ ২২ হাজার টাকা দেয়। আর অটোরিকশার চার্জার পেলে অবশিষ্ট ২ হাজার টাকা পরিশোধ করবে বলে জানায়। ২২ হাজার টাকার মধ্যে কাউসার আগের জরিমানার  ১৫ হাজার টাকা নেয়। অবশিষ্ট টাকা আসামি আল-আমিন, জনি ও কাউসারের বাবা মাহাবুবুর ভাগাভাগি করে নেয়।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের সহযোগী আরেক আসামি কাউসার ঘটনার পরদিনই গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পালিয়ে যায়। ঘটনার দিন কাউসার যে ফোন ব্যবহার করেছিল, সেটা তার বাড়ি থেকে তার বাবার হেফাজত হতে আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। পলাতক আসামি কাউসারকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, গ্রেফতার ৩ আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

ইত্তেফাক/এনই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

‘ঘুষ না পেয়ে স্থাপনা উচ্ছেদ’

প্রথম স্বামীর জমানো টাকা আনতে গিয়ে দ্বিতীয় স্বামীর হাতে খুন!

মেয়েকে গুমের মামলায় বাবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ৮ চেয়ারম্যান প্রার্থীর অভিযোগ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

রাণীর পর গিনেসে এবার ‘চারু’র নাম

বগুড়ায় বাসচাপায় নিহত ৫

নীলফামারীতে ট্রেন-অটো সংঘর্ষ, ৪ শ্রমিকের মৃত্যু

কাতারী জামাই: ৭ জেলায় ৭ বিয়ে, হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা!