মোটরসাইকেল কিনতে কিডনি ক্রেতার খোঁজে যুবক

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২১, ২০:৪৯

ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসারের হাল ধরতে চেয়েছিলেন হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান বাপ্পী মোল্লা (২৫)। তবে তার বাবা তাকে মোটরসাইকেল কিনে দেননি। তাই নিজের কিডনি বিক্রি করে মোটরসাইকেল কেনার সিদ্ধান্ত নেন বাপ্পী। কিডনি বিক্রির জন্য তিন দিন ধরে তিনি এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ক্রেতা খুঁজে বেড়াচ্ছেন। 

কিডনি বিক্রির বিষয়টি বেআইনি জেনেও নিরুপায় হয়ে ক্রেতার খোঁজ করছেন বাপ্পী। রবিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে পুলিশ তাকে আটক করেছে। বর্তমানে তিনি যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজুল হোসেন বলেন, মনের দুঃখে সে কিডনি বিক্রি করতে চেয়েছিল। আমরা তার অভিভাবককে খবর দিয়েছি। অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করব।

বাপ্পী মোল্লা জানান, চার-ভাই বোনের মধ্যে বাপ্পী সবার বড়। বাপ্পী ও তার হতদরিদ্র বাবা এলাকার পরের জমিতে কৃষি দিনমজুর হিসাবে কাজ করে। চার মাস আগে মাগুরা জেলার বারাসি গ্রামের শরীফ হোসেনের মেয়ে সুমাইয়া খাতুনের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পরে কৃষিকাজ করে সংসার খরচ ভালোমতো না চলায় স্ত্রী পরামর্শ দেয় মোটরসাইকেল কিনে ভাড়ায় চালাতে। সেই পরামর্শেই বাপ্পী তার বাবার কাছে মোটরসাইকেল কেনার টাকা চায়। কিন্তু বাপ্পীকে মোটরসাইকেল কিনে না দিয়ে বাবা তার ছোটভাই সাগরকে মোটরসাইকেল কিনে দেয়। 

এতে গত (৪ নভেম্বর) বাবার সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। সেই দিনই তার স্ত্রী সুমাইয়া পারিবারিক কলহে বাবার বাড়িতে চলে যায়। তারপর বাবার প্রতি রাগ করে মোটর সাইকেল কিনেই বাড়িতে ফিরবেন বলে তিনি প্রতিজ্ঞা করেন। এর পরে গত তিন ধরে ঝিনাইদহ ও যশোরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক ঘুরে বেড়াচ্ছেন কিনডির ক্রেতার খোঁজে। 

হাসপাতালে দায়িত্বরত কনস্টেবল সৌরভ বলেন, ঝিনাইদহের এক যুবক নিজের কিডনি বিক্রি করবেন বলে ক্রেতা খুঁজে বেড়াচ্ছে জানতে পেরে তাকে আটক করে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। 

 

 

ইত্তেফাক/এসআই