এই দুর্দশার জন্য আইপিএল দায়ি: কপিল দেব

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২১, ১৯:২২

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের লিগ পর্ব হতে ভারত বিদায় নেওয়ার জন্য আইপিএলকে দায়ি করেছেন ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তী কপিল দেব। আইপিএলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন তিনি। দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে বিশ্বকাপ জয়ী সাবেক এই অধিনায়ক রীতিমতো অভিযোগই করলেন। মারাত্মক অভিযোগ, জাতীয় দলের হয়ে পারফরম্যান্স করার চেয়ে কয়েকজন ক্রিকেটার ক্রোড়পতি লিগকে প্রাধান্য দিয়ে ফেলেছেন। সেই জন্য বিরাট কোহলির দলের বিসর্জন ঘটে গেল বলে মনে করেন তিনি। এমন ঘটনার জন্য যাতে ভবিষ্যতে ভারতীয় ক্রিকেটের সুনাম নষ্ট না হয়, সে জন্য বিসিসিআই কর্তাদের আরও সজাগ হওয়ার পরামর্শ দিলেন কপিল।

টিম ইন্ডিয়ার কয়েকজন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুলে কপিল বললেন, ‘কয়েকজন ক্রিকেটার যদি দেশের হয়ে খেলার থেকে আইপিএলকে বেশি গুরুত্ব দেয় তাহলে আর কিছু বলার থাকে না। আমি ওদের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে ওয়াকিবহল নই। তাই সে বিষয়ে বেশি কিছু বলতে পারবো না। তবে আমার মতে দেশের হয়ে খেলাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। তারপরে আসবে ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট। বর্তমান যুগে এগিয়ে যেতে হলে ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলা খুব দরকার আছে এটা মানি। কিন্তু দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে সেটা করা কাম্য নয়। আর সেই জন্য বিসিসিআইয়ের এই দিকে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। মাথা ঘামানো উচিত। যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়। সেটা মাথায় রেখে আরও ভালোভাবে দায়িত্ব সহকারে পরিকল্পনা করার দরকার।’

১৯৮৩ সালে ভারতের প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে অধিনায়ক কপিল দেব (ফাইল ছবি)

এমনিতেই ২০১৩ সালের পর থেকে কোনো আইসিসি প্রতিযোগিতায় ট্রফি জিতেনি ভারত। এর মধ্যে ২০০৭ সালের ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের 'রিমেক' ঘটিয়ে এবার প্রথমার্ধ থেকেই বিদায় নিয়েছ তারকাখচিত দল ভারত। তাই কপিলের মতো আরও অনেকে ভারতের পারফরম্যান্স দেখে ক্ষুব্দ হয়েছেন। বলেছেন এমন জঘন্য খেলা আর দেখেননি তারা।

কপিল বলেন, ‘২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করা হবে। এছাড়াও ভারতের মাটিতে এবং দেশের বাইরে বেশ কয়েকটি সিরিজ খেলতে হবে। ঘরে-বাইরে এসব দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নিয়ে ভাবতে হবে। তাই বলছি হাতে সময় কম, কিন্তু পরিধিটা বেশি। এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যাওয়া মানে কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট শেষ হয়ে যায়নি। তাই সময় নষ্ট না করে এখন থেকেই যেন পরিকল্পনা শুরু করে দেওয়া উচিত ক্রিকেট বোর্ড কর্তাদের।’

ইত্তেফাক/টিএ