ঝড়ের পর ডমিঙ্গোর মুখে কুলুপ

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২১, ১০:১৪

বাংলাদেশের হেড কোচ হওয়ার পর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ রাসেল ডমিঙ্গোর। নিয়মিতই নানা আলাপচারিতা হয়। ক্ষুদে বার্তা দেখলেই উত্তর দেন কোচ। বাংলাদেশ কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকা যেখানেই থাকেন, আলাপের শেষে ‘থ্যাংকস স্যার’ লিখেন ডমিঙ্গো। কথা বলতে না চাইলেও সরাসরি জানিয়ে দিতেন।

গতকাল এই প্রোটিয়াকে পাওয়া গেল ভিন্নভাবে। অতীতের মতো ক্ষুদে বার্তা দেখছেন, কিন্তু কোনো উত্তর নেই ডমিঙ্গোর। সব ধরনের জিজ্ঞাসাতেই চুপ তিনি, আশ্চর্য নীরবতায় আচ্ছন্ন। কবে বাংলাদেশে ফিরবেন প্রশ্নেও কোচের উত্তর দিলেন না। যদিও গতকাল বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান সিরিজের জন্য ১২-১৩ নভেম্বরের মধ্যেই ঢাকায় ফিরবেন তিনি। বাকি বিদেশি কোচদেরও একই সময়ে ফেরার কথা।

টাইগারদের হেড কোচের এমন স্তব্ধতার কারণ কারোই অজানা নয়। টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ভরাডুবির পুরো দায়ভার ডমিঙ্গোর উপরই বর্তাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সমালোচনার তোপে ছিলেন না ক্রিকেটাররা। ২২ গজে তাদের ব্যর্থতার কারণেই এমন নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ক্রমেই আলোচনার মোড় ঘুরে যায়। সমালোচনার তীর তাক করা হয় ডমিঙ্গোর দিকে। সাবেক ক্রিকেটার থেকে শুরু করে গণমাধ্যমও তাকে তাড়ানোর পরামর্শই দিয়ে আসছে। ব্যর্থতার রূপকার যেন এই কোচ!

দলের ব্যর্থতায় অবশ্যই কোচের দায় রয়েছে। কিন্তু দেশের হয়ে ১৫ বছর খেলা ক্রিকেটার যখন উইকেটে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্কুপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হন, সেখানে কোচ কতটা দায়ী, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। ব্যাটসম্যানরা সবাই যখন আত্মাহুতির মিছিলে শামিল হন, তখন কোচের কীইবা করার আছে।

২০১৯ সালের আগস্টে বাংলাদেশের কোচ হিসেবে নিয়োগ পান ডমিঙ্গো। বিশ্বকাপের মাঝপথে আরও ২ বছরের জন্য বিসিবির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে তার। বেতনও বেড়েছে বেশ, এখন প্রতি মাসে আয়কর বাদেই ১৮ হাজার ডলার পাবেন তিনি। যেখানে প্রথম বছরটা ‘গ্যারেন্টেড’, অর্থাৎ এই সময়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা যাবে না, চুক্তি ভঙ্গ হলে দুই পক্ষকেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ডমিঙ্গোর দিকে চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব আসার সম্ভাবনা নেই, এটুকু নিশ্চিত। সেক্ষেত্রে তড়িঘড়ি তাকে সরাতে গেলে বিসিবিকেই গচ্চা দিতে হবে বড় অংক।

ডমিঙ্গো চুপ থাকলেও তাকে সরানোর আয়োজন ঠিকই চলছে বিসিবিতে। দফায় দফায় মিটিং শেষে চূড়ান্ত হওয়ার পর্যায়ে আছে অনেক সিদ্ধান্ত। যার মধ্যে কিছু কিছু এখনই দৃশ্যমান রয়েছে। মোটা অংকের বেতনে হেড কোচ থাকলেও খালেদ মাহমুদ সুজনকে পাকিস্তান সিরিজে টিম ডিরেক্টর করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কাজে নেমে পড়েছেন বিসিবির এ পরিচালক। বাংলাদেশ দলের বিপাকে পড়টা সুজনের জন্য শাপেবর বটে। তখনই ডাক পড়ে তার। এবং দেশের কোচের ভূমিকায় আসার স্বপ্নও পূরণ হয় সুজনের।

বোলিং, ব্যাটিং, ফিল্ডিং কোচ থাকলেও পাকিস্তান সিরিজে সহকারী কোচ হিসেবে নেয়া হবে সালাউদ্দিনকে। আসন্ন সিরিজে টাইগারদের ড্রেসিংরুম যে অধিক সন্ন্যাসীর আসর হয়ে যাচ্ছে তাতে সন্দেহ নেই।

বিসিবির এসব পদক্ষেপ অজানা নয় ডমিঙ্গোর। সমালোচনার ঝড়, বিসিবির তোড়জোড় দেখেই হয়তো নিজে থেকে গুটিয়ে গেছেন এই প্রোটিয়া কোচ।

ইত্তেফাক/এমআর