পাখির প্রতি ভালোবাসা

লিজার বহুমুখী প্রতিভা

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:৪৮

ছোটবেলা থেকেই লিজার পশু পাখির প্রতি ভালোলাগা। একদিনের ঘটনা। কোথা থেকে যেন একটা পাখি বারান্দায় এসে পড়ে। বাচ্চা পাখি। লিজার মায়া হয়। পাখি পোষা শুরু করেন। পাখিটির নাম ছিলো বাজরিগার। খাঁচার পোষা পাখি। লিজার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মধ্যপাড়ায়। পোষা পাখি পালন করে ওই এলাকায় সাড়া ফেলেছেন তিনি। ১৫টির মতো বাজরিগার পাখি এখন তার সংগ্রহে রয়েছে।

লিজার পুরো নাম লিজা আফরোজ। মাস্টার্স পড়ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে। মেধাবী ছাত্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি পোষা পাখি পালন করেন। লিজা বলেন, বাজরিগার খুব সুন্দর পাখি। পড়াশোনার পাশাপাশি যে কোনো শিক্ষার্থী এই পাখি পালন করতে পারে। পোষা পাখির সুফল বলে শেষ করা যাবে না।

লিজা বলেন, পোষা পাখির স্পর্শে মন খারাপ দূর হয়। একঘেয়ামী কেটে যায়। পাখির ছোট ছোট বেবী নিজেকে নতুন করে চিনতে সাহায্য করে। সারাদিন তো নয়। পাখির পিছনে ঘণ্টাখানেক ব্যয় করলেই হয়। শিক্ষার্থী, গৃহবধূ যাদের কথাই বলা হোক। তাদের হাতে অনেক অলস সময় থাকে। সময় অপচয় করে। পোষা পাখিতে সে সময়টুকু দেওয়া যায়। লিজার মতে, বাজরিগার এমনই এক পাখি। একটু ভালোবাসা পেলেই সুফল দেয়। খুব বেশি যত্ন আত্তি নেই। নিয়মিত খাবার, পানি পরিবর্তন, খাঁচা পরিষ্কার রাখা, শীতকালে ঠান্ডা যেন না লাগে লক্ষ্য রাখা। এটুকুই।  লিজা জানান, মোবাইল আসক্তি দূর করতে পারে পোষা পাখি। বাসার পরিবেশে ভিন্নত, একটু প্রকৃতির ছোয়ার জন্য পোষা পাখি অতুলনীয় বলে লিজা জানান। বাজরিগার পাখির দাম ও কম। লিজা জানান, তরুণ তরুণীদের বিপদগামীতা রোধে পোষা পাখি বাজরিগার অনন্য। ছেলে মেয়েদের পোষা পাখি কিনে দেওয়া উত্তম। এর কোনো সাইড এফেক্ট নেই। লিজার কিছু কোয়েল পাখি ও পালন করেন। কারণ হিসাবে তিনি জানালেন, কোয়েলের ডিম খুব পুষ্টিকর। শুধু পাখি নয়। লিজা ছাদ বাগান করে সাড়া ফেলেছেন। সবজি, ফল, মূল কি নেই সেখানে। তিনি শতভাগ বিষমুক্ত সবজি উত্পাদন করেন। পরিবারের সবজির চাহিদা তো মিটেই, উপরন্তু পাড়া প্রতিবেশিদের উপহার ও দেন।  তিনি ফেসবুকে গ্রীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামে একটি গ্রুপের এডমিন। পরউপকারী লিজা। গাছ, পাখি নিয়ে যার সমস্যা হোক না কেন লিজার কাছে গেলে সাহায্য পান। তিনি তার গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে বীজ, চারা বিতরণ করেন।