গত বছর আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের দুই ক্রিকেটার শরীফুল ইসলাম ও শামীম হোসেন পাটোয়ারি এখন বাংলাদেশ জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য। শরীফুল তো তিন ফরম্যাটের দলেই আছেন। বিশ্বজয়ী দলটার আরও কয়েক জন এখন নির্বাচকদের রাডারে আছেন। তার মধ্যে ওপেনার পারভেজ হোসেনের ওপরই বেশি স্পটলাইট। সার্বিক পরিস্থিতি বলছে পাকিস্তান সিরিজেই টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়ে যেতে পারে এ তরুণ বাঁহাতি ব্যাটারের।
মিডল অর্ডারে তৌহিদ হৃদয়ও বেশ এগিয়ে আছেন। বর্তমানে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে চলমান অনুশীলনে পরিশ্রম করছেন ২০ বছর বয়সী এ তরুণ। জাতীয় দলের চৌকাঠ পার হওয়া, দেশের প্রতিনিধিত্ব করাই তৌহিদ হৃদয়ের স্বপ্ন। পাকিস্তান সিরিজে সুযোগ পাবেন কিনা, তা জানা নেই তার। তবে খালেদ মাহমুদ সুজনের অধীনে অনুশীলনের সুযোগটা কাজে লাগানো, বড় মঞ্চের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করাই তার মূল লক্ষ্য। ডানহাতি এ ব্যাটার বলেছেন, যুব বিশ্বকাপ জয় জীবনের সেরা অর্জন। যার অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তপ্ত জমিনে মানিয়ে নিতেও সাহায্য করবে।
জাতীয় দলের প্রাথমিক ক্যাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সামনে নিজেকে মেলে ধরতে চান তৌহিদ হৃদয়। মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) তিনি বলেছেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করি, যেই সুযোগটা পেয়েছি সেটা কাজে লাগাবো ইনশাআল্লাহ। হতে পারে অনুশীলন, হতে পারে সবকিছুই।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাহমুদউল্লাহদের ভরাডুবির পরই প্রাথমিক ক্যাম্পে ডাক পড়েছে এসব তরুণদের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ অনেক। তৌহিদ হৃদয়ের আশা, যুব বিশ্বকাপ জয় আত্মবিশ্বাস যোগাবে দলের সবাইকে। এর মাধ্যমে স্নায়ুচাপ জয়ের একটা দীক্ষাও পেয়েছেন তারা।
তরুণ এই ক্রিকেটার বলেন, ‘আমরা যতদিন ক্রিকেট খেলবো, ততদিন এটা আমাদের আত্মবিশ্বাস দেবে। একটা বিশ্বকাপ জয় হয়েছে। আমরা প্রতিটা খেলোয়াড় ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করি যে কীভাবে বিশ্বকাপ জিততে হয়, সেই সঙ্গে আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে। ইনশাআল্লাহ বড়দের বিশ্বকাপ যেটা আছে সেটাও জিততে সক্ষম হবো।’
গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আকবর আলির দল। বাংলাদেশ পেয়েছিল বিশ্বসেরার গৌরব। বয়স ভিত্তিক পর্যায়ের সাফল্যে তৃপ্ত হয়ে পড়ে থাকতে চান না তৌহিদ হৃদয়। জাতীয় দলে খেলাই তার মূল টার্গেট। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের লক্ষ্য নিজেদের সেরাটা দিয়ে জাতীয় দলে ঢোকা, জাতীয় দলের গিয়েও নিজের সেরাটা দেওয়া। এটা অনেকের ক্ষেত্রে হবে, অনেকের ক্ষেত্রে হবে না।’
উইকেট নিয়ে কোনো অনুযোগ নেই তৌহিদ হৃদয়ের। তার মতে, উইকেট যেমনই হোক, মাঠে নেমে সেরাটা দিতে হবে। বিশ্বকাপের দুঃস্বপ্ন ভুলে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ দল লড়াই করবে বলে বিশ্বাস করেন এ তরুণ।
তিনি বলেছেন, ‘অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং হবে। ঘরের মাঠে অবশ্যই আমরা ভালো দল। অতো সহজে আমরা হার মানবো না ইনশাআল্লাহ। তারপরও যেহেতু আমাদের কঠিন সময় যাচ্ছে, তাই আমরা অনুভব করছি, আমরা যদি আমাদের সেরাটা দিতে পারি, সবাই সবার জায়গা থেকে ভালো কিছু দিতে পারি, তাহলে ভালো রেজাল্ট আসবে।’
ইত্তেফাক/টিএ
