বিদায় বেলাতেও অজুহাত দিলেন রবি শাস্ত্রী। এবার অজুহাত দিতে গিয়ে তো স্যার ডন ব্র্যাডম্যানকেও টেনে আনলেন ভারতের সদ্য বিদায়ী হেড কোচ রবি শাস্ত্রী। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের লিগ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া তারকাখচিত ভারত। শেষ তিন ম্যাচে অপেক্ষাকৃত দুর্বল আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড ও নামিবিয়াকে হেলায় হারালেও শেষ রক্ষা হয়নি। কারণ পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের কাছে বড় ব্যবধানে লজ্জাজনক হারের জন্য অনেক আগেই ভেন্টিলেশনে চলে গিয়েছিল বিরাট কোহলির দল। আর সেই দুটি কঠিন ম্যাচ হারের পর থেকেই নিয়ম করে জৈব বলয়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এবং শেষ দিনেও ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে সেই ধারা বজায় রাখলো টিম ইন্ডিয়া।
নামিবিয়ার বিপক্ষে ৯ উইকেটে জয়ের পর সাংবাদিক সম্মেলনে গিয়েছিলেন রবি শাস্ত্রী। সেখানেও সেই ভাঙা রেকর্ড বাজালেন সাবেক এই অলরাউন্ডার। অজুহাত দিয়ে শাস্ত্রী বলেন, ‘গত ছয় মাস আমাদের দল জৈব বলয়ের মধ্যে রয়েছে। একটার পর একটা সিরিজের জন্য মাসের পর মাস বলয়ে থাকতে হয়েছে। এটা কোনো অজুহাত নয়, এটাই বাস্তব। আমি মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত। কিন্তু আমাদের দলের প্রতিটা ক্রিকেটার মানসিক ও শারীরিক ভাবে বিধ্বস্ত। তাই আইপিএল ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঝে লম্বা বিরতি পেলে খুব ভালো হতো।’
রবি শাস্ত্রীর অজুহাতের ফিরিস্তি এখানেই শেষ নয়। তিনি আরও যোগ করেন, ‘গত ছয় মাস আমাদের দল কঠিন জৈব সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে থেকেছে। এই দলের একাধিক ক্রিকেটার তিনটি ফরম্যাটেই খেলে। গত ২৪ মাসে খেলোয়াড়রা মাত্র ২৫ দিন বাড়িতে থাকতে পেরেছে। তাই আপনি কে তাতে কিছুই যায় আসে না। আপনার নাম যদি ডন ব্র্যাডম্যানও হয়, আপনি যদি জৈব বলয়ে থাকেন, তাহলে আপনার গড়ও কমে আসতে বাধ্য। কারণ আপনিও মানুষ।’
কোহলি-শাস্ত্রী জুটির এটাই ছিল শেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সবাই ধরেই নিয়েছিল যে এবার শিরোপা হাতে তুলবে ভারত। কিন্তু সেটা তো হলোই না, উল্টো ২০০৭ সালের ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের পর ফের একবার লিগ পর্বে লজ্জার বিদায় নিলো ভারতীয় দল। তবে বিদায়ঘন্টা বেজে গিয়েছে সেটা বুঝতে পেরেই রোহিত শর্মা, জাসপ্রিত বুমরা থেকে শুরু করে সদ্য বিদায়ী দুই সহকারী কোচ বিক্রম রাঠৌর ও ভরত অরুণ পর্যন্ত সেই এক অজুহাত শুনিয়ে গিয়েছিলেন।
শাস্ত্রী ফের দার্শনিক ভঙ্গিতে বললেন, ‘আপনি যা চাইবেন সেটা সব সময় তো পাওয়া যায় না। এটা কঠিন সময়। সবার জীবনেই কঠিন সময় আসে। তবে সবকিছু জয় দিয়ে উপলব্ধি করা যায় না। অনেক সময় লড়াকু মানসিকতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এই দলটি সেটাই করে দেখিয়েছে। তারা টিকে থাকার মানসিকতা দেখিয়েছে, কোনো অভিযোগ ছিল না তাদের মধ্যে। কিন্তু এখনই হোক বা পরে এই বাবল ফেটে যাবে। তাই আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। ক্রিকেটাররা তো আর পেট্রলে চলে না।’
ইত্তেফাক/টিএ
