লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চুরির ঘটনা। অধিকাংশ চোরই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। কোনোভাবেই তাদের দৌরাত্ম্য থামানো যাচ্ছে না। আস্থাহীনতায় অনেকেই অভিযোগ জানাতে থানায়ও যাচ্ছেন না। ফলে চুরি ঠেকাতে উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় লোকজন।
উপজেলায় গত একমাসে মোটরসাইকেল, দোকান ও বাসা-বাড়ির মালামাল, অটোরিকশা, শ্যালো মেশিন, স্বর্ণালঙ্কার চুরির অর্ধশতাধিক ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। চোরের দৌরাত্ম্য থেকে রেহাই পাননি জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক, সাংবাদিকও।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) দৈনিক মানবকণ্ঠের রায়পুর প্রতিনিধি নুরুল আমিন ভূঁইয়া দুলালের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত চুরির মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এছাড়া কেউ আটকও হয়নি।
গত ৫ নভেম্বর শুক্রবার দিন-দুপুরে পৌর শহরের মীরগঞ্জ সড়কের আইডিয়াল স্কুলের সম্মুখে নুরুল হুদার বাড়ি থেকে ল্যাপটপ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ টাকা চুরি করে সংঘবদ্ধ চোরের দল। সিসিটিভির ফুটেজে ২ জনকে দেখা য়ায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। তবে, এই পর্যন্ত চুরির মালামাল উদ্ধার কিংবা কোনো চোরকেও আটক করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে গত ২৫ অক্টোবর রায়পুর গাজী মার্কেটের সামনে থেকে এক ব্যবসায়ীর মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। একই দিনে রায়পুর সরকারি হাসপাতালের সামনে থেকে এক ডাক্তারের মোটরসাইকেল চুরির সময় একজন আটক করে জনতা।
গত মাসে উপজেলার চরপাতা গ্রামের মোস্তফা মিয়ার খামার থেকে দু’টি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। চলতি মাসে পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ড থেকে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তির অটোরিকশা চুরি হয়ে যায়। ৮ নভেম্বর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. ইউসুফের বাসার সামনে থেকে তার মোটরসাইকেল চুরির সময় জনতার হাতে এক যুবক আটক হয়। পরে তাকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকি ও টহলের অভাবে এমন চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষ মূল্যবান সম্পদ ও আয়ের উৎস হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এই সংঘবদ্ধ চোরের কাছ থেকে রক্ষা পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
নাম না প্রকাশে ভুক্তভোগী শহরের এক দোকান মালিক বলেন, ‘চুরির পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এরপর আর খোঁজ রাখে না। সাধারণ মানুষ হিসেবে আর কী করার আছে আমাদের? নিজেরা চুরি যাওয়া মালের সন্ধান করে এক সময় থেমে যেতে হয়।’
কেরোয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সামছুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ইউপি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় শীতের সময় চুরি-ছিনতাই একটু বেশি হয়। তাই গ্রাম পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসী মিলে বিভিন্ন গ্রামে রাত জেগে পাহারা ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কঠোর নজরদারি বাড়িয়ে অপরাধ দমনে সফল হবে।’
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল বলেন, ‘চুরি রোধ বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। এখনো চেষ্টা করছি। কিছু উদ্ধার করেছি ও কিছু উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া আমাদের কাছে যে কয়টা অভিযোগ এসেছে, সেসব বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চোর ধরতে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।’

শাহজালাল বিমানবন্দরে ১০ ডিসেম্বর থেকে বন্ধ থাকবে রাতের ফ্লাইট
ঘরে ঘরে পাহারা দিয়ে নির্বাচনি সহিংসতা ঠেকানো যায় না: সিইসি