ঝুঁকিতে থেরেসা মে

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ২২:১৬

 

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে ব্রিটেনে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। ব্রেক্সিট নিয়ে দ্বন্দ্বে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের সরকার থেকে কয়েকজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। ২০১৬ সালের গণভোটের সময় যেসব মন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে মতামত দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে অনেকে এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। থেরেসা মে’র সরকারে দ্বন্দ্ব ক্রমেই বাড়ছে। গত শুক্রবার থেরেসা মে’কে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন ওঠে। তার বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোট আনার সম্ভাবনা ছিল। আপাতত সেই বিপদ কেটে গেছে। কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য থেরেসা মে’র ঝুঁকি রয়েই গেল।

থেরেসার ঝুঁকি কাটেনি

প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে অঙ্গীকার করেছেন, তিনি ব্রেক্সিটের খসড়া বিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেতাদের দিয়ে পাস করাবেন। ২৫ নভেম্বর ইইউ নেতারা তার খসড়া বিল পাস করলেও নিজ দেশের পার্লামেন্টে তিনি পাস করাতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ পার্লামেন্টে তার যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। টোরি বা কনজারভেটিভ দলের ২৪৪ এমপি তার প্রতি সমর্থন রাখলেও বিল পাস করতে তার দরকার ৩২০ জন এমপির সমর্থন। বাকিদের মধ্যে অধিকাংশই তার বিরোধিতা করছেন। প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি ব্রেক্সিট নীতির বিরোধিতা করছে। নর্দান আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন পার্টি থেরেসার সব বিলেই সমর্থন দেয়। কিন্তু সেই দলও ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা ব্রেক্সিট বিলের বিপক্ষে ভোট দেবে। এমনকি তারা ব্রিটেন থেকে বিভক্ত হওয়ারও হুমকি দিয়েছে। কনজারভেটিভ পার্টি এবং অন্যান্য দলের নেতারাও থেরেসা মে’র বিপক্ষে ভোট দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। আগামী ৭ ডিসেম্বর পার্লামেন্টে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রীদের পদত্যাগের হিড়িক

পরিবহনমন্ত্রী জো জনসন, ব্রেক্সিট সেক্রেটারি ডোমিনিক রাব এবং ওয়ার্ক অ্যান্ড পেসনস সেক্রেটারিসহ কয়েকজন গত সপ্তাহে পদত্যাগ করেছেন। তারা উভয়েই ব্রেক্সিটের খসড়া বিরোধিতা করেছেন। এর আগে গত জুলাইয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরসি জনসন এবং ব্রেক্সিটমন্ত্রী ডেভিড ডেভিস পদত্যাগ করেন ব্রেক্সিটের প্রতিবাদে। প্রধানমন্ত্রী আটজন মন্ত্রী হারিয়েছেন। কেবল মন্ত্রীরাই নয়, জনগণও ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে চলে গেছে। এ নিয়ে বড় ধরনের বিক্ষোভও হয়েছে। কিন্তু থেরেসা মে বলেছেন, ২০১৬ সালের গণভোটের ফলাফলকে তিনি বাস্তবায়ন করবেন। ওই গণভোটে সামান্য ব্যবধানে ব্রেক্সিটপন্থিরা জিতে যান। কিন্তু জনগণ এবং মন্ত্রীরা আরেকটি গণভোটের দাবি করেছেন।

থেরেসা মে সরে গেলে কী হবে

কনজারভেটিভ দলের ১৫ ভাগ নেতা যদি থেরেসা মে কে দলের নেতা হিসেবে মানতে না চান তাহলে তিনি থাকতে পারবেন না। তারা একটি চিঠি লিখতে পারেন যাতে লেখা থাকবে তারা থেরেসা মে’র ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। এই চিঠি ১৯২২ কমিটির কাছে পাঠানো হবে। এই কমিটি ব্যাকবেঞ্চ এমপিদের নিয়ে গঠিত। এর ফলে তার বিরুদ্ধে দলের মধ্যে অনাস্থা ভোট হবে। গোপন ব্যালটের ভোটে তিনি জিতে গেলে বেঁচে যাবেন অন্তত এক বছরের জন্য। কিন্তু তিনি যদি হেরে যান তাহলে দলের নেতৃত্ব হারাবেন এবং প্রধানমন্ত্রিত্বও হারাবেন। এরপর নতুন নেতা নির্বাচিত করা হবে। এই নির্বাচনে থেরেসা মে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। এছাড়া সাধারণ নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হতে পারে যার মাধ্যমে টোরি দলের নতুন নেতা নির্বাচিত হবেন।