দুদকের মামলায় কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলামকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিলকৃত সম্পদের হিসাব বিবরণীতে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় উচ্চ আদালতে ছয় সপ্তাহের জামিনের মেয়াদ শেষে তাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে নিম্ন আদালতে হাজির করা হয়। কুষ্টিয়া স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. আশরাফুল ইসলাম জামিন বাতিল করে প্রকৌশলী রবিউলকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। দুদকের আইনজীবী আল মুজাহিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুদকের কুষ্টিয়াস্থ কার্যালয়ের উপ-সহকারী নীল কমল পাল বাদী হয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম ও তার স্ত্রী কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক কামরুন্নাহারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অবৈধ অর্থকে বৈধ করার কাজে সহায়তার অপরাধে প্রকৌশলী রবিউলের স্ত্রী প্রভাষক কামরুন্নাহার আসামির অন্তর্ভুক্ত হন। তিনিও উচ্চ আদালতের জামিনে রয়েছেন। আগামী ১৪ নভেম্বর তাকেও নিম্ন আদালতে হাজির হতে উচ্চ আদালত আদেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৩৬ লাখ ৩২ হাজার ৬৬১ টাকার সম্পদের মিথ্যা তথ্য প্রদান ও আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ৫২ লাখ ১৬ হাজার ৫৭৩ টাকার সম্পদ অর্জন এবং দখলে রাখার অপরাধের সত্যতা তদন্তে উদঘাটিত হওয়ায় মামলাটি দায়ের করা হয়। এটি ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭ (১) মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে দুদকের আইনজীবী ও কর্মকর্তারা জানান।
উল্লেখ্য, নাগরিক পরিষেবা দানকারী কুষ্টিয়া পৌরসভার কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে বলে শহরবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ।
