নিজের শেষ দেখে ফেলেছিলেন ক্যানসার জয়ী ওয়েড

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২১, ১৮:৫২

অস্ট্রেলিয়ার মতো ইতিহাস সমৃদ্ধ একটি দলে ম্যাথু ওয়েড খুবই বেমানান। পরিসংখ্যান কখনই তার পক্ষে কথা বলবে না। ইতিহাস তাকে মনে রাখবে এমন কোনো কারণও ছিল না। অবশেষে টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এসে এমন কিছু করলেন, তাকে ভুলে যাওয়ার সাধ্য নেই আর কারো!

সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে যখন ক্রিজে আসেন জয় তখনো ৮১ রান দূরে অস্ট্রেলিয়া। হাতে আছে ৫ উইকেট ও বাকি আছে। একাই চার উইকেট নেওয়া শাদাব খানের গুগলি সামলে শুরু করেন ওয়েড। এমন চিন্তনীয় পরিস্থিতিতে তার ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে সংশয় ছিল বেশ। এমনকি ওয়েড নিজেও ছিলেন অনিশ্চিত দোটানায়। তবে অপরপ্রান্তে থাকা মার্কাস স্টয়নিসের কাছে ভরসা পেলেন। তারপর আর তাকে থামায় কে। 

দুই ওভারে তখন ২২ রান  লাগে। আক্রমণে সেরা বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদিকে আনলেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। প্রথম তিন বলে রান আসে চার, এর মধ্যে হাসান আলী ক্যাচ না ফেললে মিলত ওয়েডের উইকেটও। জীবন পেয়ে যেন আরও উজ্জীবিত হয়ে উঠলেন ওয়েড।  চতুর্থ বলে শাহিনের ইয়র্কার উড়িয়ে বাউন্ডারির বাইরে পাঠান ফাইন লেগ দিয়ে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাট করছেন ওয়েড

পঞ্চম বলে কাটারের চেষ্টা করেছিলেন শাহিন। সেই বলটাকে মিড উইকেটের ওপর দিয়ে গ্যালারিতে পাঠালেন। শেষ বলে আবারো ইয়র্কারে ফিরে যান আফ্রিদি, এবার গতি আরও বাড়িয়ে। তীক্ষ্ণ বুদ্ধিতে সেটিকে স্কুপের মাধ্যমে সীমানা ছাড়া করেন ওয়েড। টানা তিন ছক্কায় এক ওভার বাকি থাকতেই শেষ হয়ে গেলো ম্যাচ। ১৭ বলে ২ চার ও ৪ ছয়ে ৪১ রানের ইনিংসে ওয়েড যেন ইতিহাসকে বলে দিলেন, আমায় ভুল না। অথচ এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার জার্সি গায়ে নিজের শেষ দেখে ফেলেছিলেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।   

ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমি এই ম্যাচের আগে খুবই নার্ভাস ছিলাম। ভেবেছিলাম, এটিই হয়তো অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে আমার শেষ ম্যাচ। এ ম্যাচে খুব করেই চেয়েছিলাম নিজে ভালো কিছু করতে। দলের জয়টা তো আছেই।’ শুধু তাই নয় সেমিফাইনালের মতো ফাইনালটাও নিজের শেষ ম্যাচ হিসেবে ভাবছেন ওয়েড। কারণ বয়সটা ৩৩। এই বয়সে আর ১০ বছর আগের মতো ভাবতে পারছেন না নিজেকে।

তিন বছর আগে জায়গা হারিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়া দলে। ফেরার আশা প্রায়ই ছেড়ে দেন তখন। ব্যাটিং দিয়ে টেস্টে জায়গা মিললেও ম্যাথু ওয়েডের জন্য বন্ধ থাকে ওয়ানডে ও টি-২০র দরজা।

জয়ের পর ওয়েড ও স্টয়নিসের উল্লাস

অবশেষে গত বছর শুরুর দিকে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ সুযোগ পান কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে।  বছরের শেষ দিকে ভারতের বিপক্ষে দুই ফিফটি করে জায়গাটা পাকাপাকি করে নেন ওয়েড। কিন্তু চলতি বছর ফর্ম নিয়ে বেশ আলোচনা হলেও ঠিকই জায়গা করে নেন বিশ্বকাপ দলে। তার আগে দলকে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ সফরে।

বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে নাটকীয় জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। যেখানে স্টয়নিসের ২৪ রানের পাশাপাশি ১০ বলে ১৫ রান করে অবদান রাখেন  জয়ে। এরপর আর ব্যাটিং পেয়েছেন শুধু ইংল্যান্ড ম্যাচে। আর সেমিফাইনালে বুঝিয়ে দেন তাকে দলে রেখে ভুল করেনি নির্বাচকরা। 

ক্রিকেট আর জীবন প্রায়শই এক বিন্দুতে এসে মিলে যায়। এই যেমন কিশোর জীবনে প্রাণঘাতী ক্যান্সারকে হারিয়ে আসার পর কম লড়াই করতে হয়নি ওয়েডকে। একের পর এক সমালোচনা বিদ্ধ হতে হতে প্রায় শেষের পথে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। কিন্তু  ওই এক ইনিংসেই যেন সব জবাব দিয়ে দিলেন ওয়েড। তাই জীবন যদি আপনাকে নিরুৎসাহিত করে তাহলে ওয়েডের মতো বেচে থাকুন। একদিন না একদিন জবাব দেয়ার সময় ঠিকই আসবে! যেমনটা এসেছিল ওয়েডের।
 

ইত্তেফাক/এসআই