বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

শীতে খুসখুসে কাশি হলে কী করবেন

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২১, ১৯:৩৭

শীত আসার আগের সময়টাতে আবহাওয়া বদলে যায়, তখন অনেকেরই কাশি হয়ে থাকে। কারও কারও কাশি দুই বা তিন সপ্তাহের বেশি থেকে যায়। সেই কাশির সঙ্গে যদি শ্লেষ্মা না থাকে তখন সেটাকে খুসখুসে কাশি বলে। বিভিন্ন কারণে এ কাশি হতে পারে। তবে, অ্যালার্জি, হাঁপানি, শ্বাসতন্ত্রে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, সাইনাস থাকলে, শুষ্ক আবহাওয়া, অতিরিক্ত ধূমপান, এমনকি বিভিন্ন রকমের ওষুধ সেবনও এ সমস্যা হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক শীতে খুসখুসে কাশি হলে কী করবেন।  

খুসখুসে কাশি কমাতে মধু ভীষণ উপকারী। যা বহু বছর ধরে সর্দি-কাশি কমাতে ব্যবহার হয়ে আসছে

কাশি কমাতে মধু  
খুসখুসে কাশি কমাতে মধু ভীষণ উপকারী। যা বহু বছর ধরে সর্দি-কাশি কমাতে ব্যবহার হয়ে আসছে। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, অ্যান্টি-মাইক্রোবায়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান থাকে যা গলায় জমা শ্লেষ্মা দূর করতে সাহায্য করে। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়, মধু কখনো কখনো কাশিরোধী ঔষুধগুলোর চেয়েও ভালো কাজ করে। খুসখুসে কাশি কমাতে এক কাপ লেবুমিশ্রিত চায়ের মধ্যে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। মধু কাশি কমাতে সাহায্য করে এবং গলাব্যথা কমায়। তবে, এক বছরের কম বয়সী শিশুদের মধু দেওয়া ঠিক নয়, এটি তাদের পেটের খাবারকে বিষাক্ত করে তুলতে পারে।

এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গার্গল করলে গলা ব্যথা ও কাশি কমতে পারে

লবণ পানিতে গার্গল
এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে আধা চা চামচ লবণ মিশিয়ে ১৫ মিনিট গার্গল করতে পারেন। এতে গলা ব্যথা ও কাশি কমতে পারে। নিয়মিত করলে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে। তবে,  বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। কারণ বাচ্চারা গার্গল করতে গিয়ে লবণ পানি খেয়ে নিতে পারে। যার ক্ষতিকর প্রভাব পরবে তাদের পেটে। 

আদা থেঁতো করে অনেকেই চায়ে দিয়ে দেন। সে চা খেলে কাশি কমে

আদায় হয় উপকার
কাশি হলে আদার রস খেলে উপকার পাওয় যায়। আদা থেঁতো করে অনেকেই চায়ে দিয়ে দেন। সে চা খেলেও কাশি কমে। আবার যদি কেউ চা না খান, তা হলে পানিতে আদা ফুটিয়ে  খেলে বা মধু ও গোলমরিচের সঙ্গে সরবতের মতো করে খেলে উপশম মিলতে পারে। কিন্তু মনে রাখবেন, বেশি আদা খাওয়া ভালো না। কারণ এটি পেটের সমস্যা তৈরি করে ও হার্ট বার্নও করে। তাই সামান্য আদা দিয়ে দিনে একবার কয়েকদিন চা বা সরবত খেলে উপশম পাওয়া যেতে পারে।

পিপারমিন্ট বা পুদিনায় মেন্থল থাকে যা নাকে সর্দি জমলে ন্যাসাল এরিয়া পরিষ্কার করে

পুদিনায় উপশম 
পিপারমিন্ট বা পুদিনায় মেন্থল থাকে যা নাকে সর্দি জমলে ন্যাসাল এরিয়া পরিষ্কার করে বা গলায় সর্দি জমলেও তা পরিষ্কার করে দেয়। কাশতে কাশতে গলা ব্যথা হয়ে গেলে পুদিনা সেই ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। দিনে ২ থেকে ৩ বার পুদিনা দিয়ে বানানো চা খেলে কাশিও কমতে পারে, গলা ব্যথাও বা অস্বস্তিতেও উপশম মিলতে পারে। 

খুসখুসে কাশি থেকে মুক্তি পেতে এক গ্লাস গরম দুধের মধ্যে আধা চা চামচ হলুদের গুঁড়া এবং এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন

হলুদ দুধে কাশি কমে 
কাশি নিয়ন্ত্রণে হলুদ বশে উপকার দেয়। খুসখুসে কাশি থেকে মুক্তি পেতে এক গ্লাস গরম দুধের মধ্যে আধা চা চামচ হলুদের গুঁড়া এবং এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এটি কাশি কমিয়ে ফেলতে ভূমিকা রাখে। 

কাশির সঙ্গে যদি শ্লেষ্মা না থাকে তখন সেটা খুসখুসে কাশি

খুসখুসে কাশি আর নয় 
বুকে ও গলায় জমা শ্লেষ্মা দূর করতে নারকেল তেলের সঙ্গে অলিভ অয়েল মিশিয়ে বুকে ও গলায় মালিশ করলে উপশম মিলতে পারে। যদি তা না হয়, ইউক্যালিপটাস এসেনশিয়াল অয়েলের স্টিম নিলেও নাক ও গলা পরিষ্কার হয়ে যায়।

ইত্তেফাক/আরএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

রোদ পোহালে কমবে করোনা ঝুঁকি 

যেসব রোগে অধিক পেয়ারা খেলে হতে পারে ক্ষতি

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে করণীয়

অতিরিক্ত মিষ্টি শিশুদের স্মৃতিশক্তি কমায় 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

গর্ভাবস্থায় যেসব পানীয় এড়িয়ে চলবেন 

ডিম ও দুধ একসঙ্গে খাওয়া কি ক্ষতিকর

ওমিক্রনে ফিট থাকতে নারীরা যা খাবেন 

স্তন ক্যানসার ঝুঁকি এড়াতে যেভাবে ঘরেই পরীক্ষা করবেন