মাহবুব শরীফ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বর্তমানে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুহূর্তের পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে যোগাযোগ এখন খুব সহজ হয়েছে। এছাড়াও, কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার প্রোফাইল ভিজিট করলেই হলো। কারণ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা ছবি শেয়ার করে থাকি।
সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের নিজেদের, পরিবারের বা বন্ধুদের সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, ছবি পোস্ট করা উচিত্? নিজেকে এমন প্রশ্ন করলে হয়তো এর উত্তর আসবে, মোটেই নয়। সম্প্রতি ফেসবুকের ‘ভিউ অ্যাজ’ ফিচারের নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙ্গে কয়েক কোটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের তথ্য ফাঁস হয়ে গিয়েছে। একের পর এক ব্যাঙ্ক জালিয়াতিসহ একাধিক সাইবার অপরাধের ঘটনা ঘটে চলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা একাধিক ব্যক্তিগত তথ্যের সূত্র ধরেই। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কখনোই কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করা উচিত্ নয় যা আপনার বিপদ ডেকে আনতে পারে। আসুন জেনে নেওয়া যাক তেমনই কয়েকটি বিষয় যেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা বিপজ্জনক হতে পারে।
জন্ম তারিখ
জন্মদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুদের থেকে শুভেচ্ছাবার্তা পেতে কার না ভাল লাগে! কিন্তু ফেসবুকসহ যে কোনো সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার সঠিক জন্ম তারিখ স্ক্যামারদের বা হ্যাকারদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য। তারা এই তথ্যকে কাজে লাগিয়ে আপনার নামে ফেক প্রোফাইল তৈরি করতে পারবে। এর পর যে কোনো সাইবার অপরাধমূলক কাজে তারা এই ফেক প্রোফাইলটি ব্যবহার করতে পারে।
সোশ্যাল প্ল্যান
আপনার কোনো সোশ্যাল প্ল্যান যেমন, বড় কোনও পার্টি, অনুষ্ঠান, কোথাও কোনো রেস্তোরাঁয় নৈশভোজে যাবেন, কারো সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা বা কোথায় বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনার তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় (টাইম লাইনে) পোস্ট করবেন না। হ্যাকাররা বা সাইবার অপরাধীরা এই তথ্য কাজে লাগিয়ে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই বা অপহরণের মতো কোনও অঘটন ঘটাতেই পারে।
লোকেশন শেয়ার
আমারা অনেকেই নিজের পোস্টের সঙ্গে সব সময় লোকেশন ট্যাগ করে থাকি। কিন্তু অনেকেই নিজের লোকেশন শেয়ার করার ভয়াবহতা সম্পর্কে তেমন কিছুই জানি না। হ্যাকাররা বা সাইবার অপরাধীরা প্রোফাইল লোকেশন অনুসরণ করে সহজেই আপনার উপর নজর রাখতে পারবে। আর যে কোনো সময় এই তথ্য কাজে লাগিয়ে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই বা অপহরণের মতো অঘটন ঘটাতেই পারে। তাই অত্যন্ত সাবধান হওয়া জরুরি।
সন্তানদের ছবি ট্যাগিং
সন্তানের কখনো কোনো ক্ষতি হোক, তা কোনোও অভিভাবকই চান না। কিন্তু অনেকেই নিজের সন্তানের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করে এবং বাচ্চাদের নাম ব্যবহার করে ফটো ট্যাগ করেন। এটা অত্যন্ত সাধারণ একটা বিষয় বলে মনে হলেও এর ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত নন অনেকেই। শিশুটির ছবি বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহূত হতে পারে, বিভিন্ন পর্নোগ্রাফির ওয়েবসাইটেও ব্যবহূত হতে পারে। তাই সতর্ক হওয়া জরুরি।
ফোন নম্বর শেয়ার
আপনার সঠিক ফোন নম্বর শেয়ার করা একটি বড় ধরনের বোকামী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। আপনার সঠিক ফোন নম্বর আয়ত্ব করতে পারলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনার অ্যাকাউন্ট আয়ত্ব করাটাও সহজ হয়। এ ছাড়াও ফোন নম্বর থেকেই আপনার বন্ধুরা আপনাকে সহজেই খুঁজে নিতে পারবে। আপনার ফোন নম্বর হ্যাকারদের হাতে পড়লে অনেক বড় সর্বনাশ হতে পারে। এক্ষেত্রে ফোন নম্বর ‘প্রাইভেসি হাইড’ করে রাখাটাই উত্তম ।
