নারীশ্রমিক কণ্ঠের গবেষণা

মজুরি সংকটে বিউটি পার্লার ও নন-ক্লিনিক্যাল স্বাস্থ্যকর্মী

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২১, ০৬:৫০

বিউটি পার্লার ও নন-ক্লিনিক্যাল স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই দুই খাতে ন্যূনতম মজুরির বিধান নেই এবং অধিকাংশ কর্মী (৬৩ শতাংশ) এই বিষয়ে কিছুই জানে না। সমীক্ষা বলছে, দুই খাতে মজুরি খুবই কম, যা দিয়ে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চলতে অক্ষম। শতকরা ৭২ ভাগ শ্রমিক ১০ ঘন্টার বেশি কাজ করে থাকেন। তিন শতাংশ শ্রমিক মাসিক মজুরি হিসেবে ২০ হাজার টাকা আয় করতে পারছেন।

শতকরা ৭৮ ভাগ উত্তরদাতা বলছেন, তাদের আয় ১০ হাজার টাকার নিচে।অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের নারীশ্রমিকদের অবদানকে তুলে ধরতে বিউটি পার্লার ও হাসপাতালের কর্মীদের ওপর এই গবেষণা করেছে নারীশ্রমিক কণ্ঠ। শুক্রবার এই গবেষণার ওপর অনলাইন মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। 

নারীশ্রমিক কণ্ঠের আহ্বায়ক শিরীন আখতার এমপির সভাপতিত্বে এবং কর্মজীবী নারীর পরিচালক (প্রোগ্রামস) সানজিদা সুলতানার সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শামসুন নাহার এবং আলোচক অতিথি ছিলেন জাতীয় গার্হস্থ্য নারীশ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা আবুল হোসেন, এনসিসিডব্লিউই সদস্য-সচিব আশিকুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ গারো বিউটি পার্লার ওনার এসোসিয়েশনের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক সান্তনু নকরেক। 

আরও বক্তব্য দেন ফ্রেডরিক-এবার্ট-স্টিফটুং এর কর্মসূচি সমন্বয়ক আরিফা এস ইসলাম। গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানে নারীশ্রমিক কণ্ঠের সদস্য-সচিব ও কর্মজীবী নারীর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

গবেষণাটিতে বলা হয়, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং ঝুঁকি সম্পর্কে কম সচেতন। সামাজিক সুরক্ষার বিধান সম্পর্কেও কর্মীদের সচেতনতার স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বিউটি পার্লারের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ (৭৪শতাংশ) এবং নন-ক্লিনিক্যাল স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের ৫৬ শতাংশ তাদের কর্মক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়নের অনুপস্থিতির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। বর্তমান সমীক্ষা কোভিড-১৯ এর সময় মজুরি এবং সুযোগ-সুবিধার উপর প্রভাব বিশ্লেষণ করে। এর  ফলাফলে দেখা যায় যে, বিউটি পার্লারের কর্মীরা নন-ক্লিনিক্যাল স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের তুলনায় মজুরি এবং সুবিধার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বিরূপ প্রভাবে সম্মুখীন হয়।

আলোচকবৃন্দ বলেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রের পরিধি এখন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। এই খাতের শ্রমিকেরা দেশের অর্থনীতিতে একটি বৃহৎ ভূমিকা রেখে চলেছে কিন্তু তারা অধিকার সম্পর্কিত সুবিধাগুলি থেকে বঞ্চিত। শামসুন নাহার এমপি বলেন, এখনও সকল শ্রমিক শ্রম আইনের আওতায় আসতে পারেনি। শ্রমিকদের সংগঠিত করতে হবে এবং সকল শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

শিরীন আখতার এমপি

সভাপতির বক্তব্যে শিরীন আখতার এমপি বলেন, বিউটি কেয়ার এবং নন-ক্লিনিক্যাল হেল্থ কেয়ার কর্মীদের শালীন কাজের অবস্থা এবং ঘাটতি অন্বেষণ ও বিশ্লেষণ করাই ছিল এই গবেষণার উদ্দেশ্য। যেখানেই যারা কাজ করুক না কেন একটি শোভন কাজ সকলের অধিকার। গবেষণা থেকে বলা হয়েছে উল্লিখিত দুটি সেক্টরসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের শালীন কর্মপরিবেশের জন্য নিয়োগপত্র, সার্ভিস বুক থাকতে হবে এবং আইন দ্বারা নির্ধারিত কর্মঘন্টা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। উভয় সেক্টরের জন্য ত্রিপক্ষীয় মজুরি বোর্ড দ্বারা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা, হাসপাতালে কার্যকরী হয়রানি বিরোধী কমিটি গঠন নিশ্চিত করা এবং বিউটি পার্লারের কর্মীদের সুরক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। পেনশন স্কিম/গ্রাচুইটি সিস্টেম চালু করা, শ্রমিকদের ভয় ও প্রতিরোধ ছাড়াই পেশাভিত্তিক ইউনিয়ন/সংঘ/সমবায় গঠন ও যোগদান করতে দিতে হবে। 

ইত্তেফাক/বিএএফ