খুমেক হাসপাতাল জনবল ও শয্যা সংকটে, চিকিৎসা ব্যাহত

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রবিউল হাসান বলেন, ৫৩ শতাংশ চিকিত্সকের পদ শূন্য। অন্যান্য স্টাফের পদ শূন্য রয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি। এত কম জনবল নিয়ে শয্যার আড়াই গুণ বেশি রোগীকে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছি।

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২১, ০৭:১০

এক হাজার শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণার পর দীর্ঘ সাত বছর কেটে গেলেও খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল আজও ৫০০ শয্যাতেই রয়ে গেছে। বাড়েনি প্রয়োজনীয় সংখ্যক শয্যা ও জনবল। তবে, সময়ের ব্যবধানে রোগী বেড়েছে কয়েকগুণ। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১ জুলাই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় উন্নীত হয়। এরপর ২০১৪ সালে এই হাসপাতালকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। দেখা গেছে, হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ সবখানেই রোগীর চাপ। মেডিসিন, সার্জারি, অর্থোপেডিক, গাইনি সব বিভাগেই ধারণ ক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি রোগী। শয্যা সঙ্কুলান না হওয়ায় শতশত রোগীকে ঠাঁই নিতে হচ্ছে মেঝেতে।

হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক জানান, ৫০০ শয্যার হাসপাতাল হলেও সেই অনুযায়ী জনবল পদায়ন হয়নি আজও। বাড়েনি সেই অনুযায়ী শয্যা সংখ্যাও। খুলনা বিভাগের ১০ জেলা এবং পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ, ও পিরোজপুরসহ আশপাশের জেলা ও উপজেলার হাজারো মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে এই হাসপাতালে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, খুমেক হাসপাতালের চিকিৎসা পাওয়ার আশায় হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার, বারান্দা, চিকিত্সকের চেম্বার, লিফটের সামনে থেকে শুরু করে বাথরুমের দরজা পর্যন্ত রোগী। সেখানে প্রচণ্ড গরম, নেই ফ্যানও। হাসপাতালের চিকিত্সকদের চেম্বারের সামনে রোগীর দীর্ঘ লাইন। স্বল্প জায়গায় বাড়তি রোগীর পদচারণায় নিশ্চিত হচ্ছে না শারীরিক দূরত্ব কিংবা স্বাস্থ্যবিধি। তারও পর রয়েছে করোনার টিকা নিতে আসা হাজারও মানুষের ভীড়।

স্বামীকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন তেরখাদা উপজেলার সাচিয়াদহ গ্রামের রহিমা সুলতানা। তারা শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে থেকেই চিকিত্সা নিচ্ছেন। তাদের পাশে সাতক্ষীরা থেকে আসা হাফিজুর রহমান চিকিৎসা নিচ্ছেন একইভাবে। কিডনিতে সমস্যা নিয়ে কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী গ্রামের মনিরুল ইসলাম ভর্তি হয়েছেন।

তিনি বলেন, হাসপাতাল সিট দেবে কীভাবে? আমার চেয়েও খারাপ অবস্থার রোগী সিটের জন্য আবেদন করে বসে আছেন। তাদেরই দিতে পারছে না। 
বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনার সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে কাঠামো থাকে তো তার জনবল থাকে না, তার প্রযুক্তিও থাকে না। এরই একটি প্রতিছবি হলো ৫০০ শয্যায় উন্নীত হওয়া ২৫০ বেডের সুযোগ সুবিধা নিয়ে চলা খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রবিউল হাসান বলেন, হাসপাতালের শয্যা ৫০০টি। প্রতিদিন রোগী ভর্তি  থাকে ১১-১২শ। ৫৩ শতাংশ চিকিত্সকের পদ শূন্য। অন্যান্য স্টাফের পদ শূন্য রয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি। এত কম জনবল নিয়ে শয্যার আড়াই গুণ বেশি রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছি।

ইত্তেফাক/বিএএফ