শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ফাইনালের নায়ক হতে পারেন যারা

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২১, ২০:১৮

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে টি-টোয়েন্টিতে নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পেতে যাচ্ছে ক্রিকেটবিশ্ব। রবিবার (১৪ নভেম্বর) দুবাইয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নামতে যাচ্ছে দুই প্রতিবেশি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। তাদের কেউই আগে এই ফরম্যাটটির শিরোপা জিতেনি। তাইতো সবার আগ্রহ ম্যাচটি ঘিরে। আর কারা হতে যাচ্ছেন এই মহারণের নায়ক? চলুন সেটি নিয়ে একটু বিশ্লেষণ করা যাক।

অ্যাডাম জাম্পা

সাধারণত সাদা বলের ক্রিকেটে লেগ স্পিনারের দেখা মিলতই না বলা যায়। কারণ, তাদের ওপর মারমুখী হওয়াটা খুব সহজ। কিন্তু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট আসার পর লেগ স্পিন ফিরে পেল হারানো সেই স্বর্ণযুগ। প্রায় প্রতিটি দলেরই এখন মুলশক্তি লেগ স্পিনার। তেমনি অস্ট্রেলিয়ার আস্থার বড় জায়গাটা অ্যাডাম জাম্পা।  তিনি যেন ঠান্ডা মাথার খুনি। দলকে ফাইনালে পৌঁছাতে অবদান রেখেছেন ১২ উইকেট নিয়ে। তার চেয়ে বড় অবদান রেখেছেন মাঝের ওভারে মিতব্যায়ী বোলিং করে।

অ্যাডাম জাম্পা

চার-ছক্কার বিশ্বকাপেও ছয় ম্যাচে ওভারপ্রতি মাত্র ৫.৯৩ রান দিয়েছেন জাম্পা। নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর বৈচিত্র দিয়ে অনন্য নিজের দিনে। টুর্নামেন্ট জুড়ে এমন লেংথে বল করেছেন, যা সামলানো ব্যাটারদের জন্য কঠিনই ছিল। তাই ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের জন্য বিপজ্জনক হতে পারেন তিনি।

ডেভিড ওয়ার্নার

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তার অফ ফর্ম নিয়ে অনেক আলোচনা চলছিল। তার ওপর বিশ্ব আসরে অতীতে ব্যর্থতাই উপহার দিয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার। তবে বদলে ফেললেন ইতিহাস। রানে তো ফিরলেনই, একই সঙ্গে দলের ভেতরও যেন প্রানের সঞ্চার জোগালেন।

ডেভিড ওয়ার্নার

৬ ম্যাচে দুই ফিফটিতে টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ২৩৬ রান করেছেন ওয়ার্নার। টুর্নামেন্টে চতুর্থ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ফাইনালে বড় কিছু করলে সুযোগ আছে শীর্ষে ওঠারও। তেমনটা যে করবেন তার ইঙ্গিত যেন আগেই দিয়ে রেখেছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬৫, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮৯ রানের পর সেমিফাইনালেও ছিলেন একই ছন্দে। তবে রিভিউটা নিলে ৪৯ রানে আউট হতে হতো না তাকে। নিউজিল্যান্ডের জন্য পরিকল্পনা থাকবে শুরুতেই ওয়ার্নারকে তুলে নেওয়া। সেজন্য ইশ সোধি হবেন আসল অস্ত্র। ৩ ম্যাচে দুই বারই এই লেগ স্পিনারের হাতে উইকেট দিয়েছেন ওয়ার্নার।

ড্যারিল মিচেল

কী দুর্দান্ত এক টুর্নামেন্টই না কাটাচ্ছেন তিনি। কোচের ক্ষুরধার মস্তিষ্ক থেকে আগত বুদ্ধিতে হুট করেই হয়ে গেলেন ওপেনার। অথচ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে কোনোদিনই তিনি ওপেন করেননি। কিন্তু তাকে দেখলে কে মনে করবে আনকোরা। ফিনিশার হিসেবে এসেই ছক্কার পর ছক্কা মারতেন তিনি, তাকেই এখন মারতে হচ্ছে বলের লাইন ও লেংথ বুঝে। তাই বলে ফিনিশারের কাজটা যে তিনি ভুলে যাননি। সেটা দেখিয়েছেন সেমিফাইনাল ম্যাচেই। ৪৭ বলে ৪ চার ও ৪ ছয়ে অপরাজিত ৭২ রানের ইনিংসে নিউজিল্যান্ডকে প্রথমবারের মতো পৌঁছে দিয়েছেন ফাইনালের মঞ্চে।

ড্যারিল মিচেল

সেই ফাইনালে ৩৩ বছর বয়সী মিচেলের পক্ষে এমন আরেকটি ইনিংসই চাইবে কিউইরা। যার অপেক্ষায় দুর্ধষ ইনিংস খেলেও উদযাপনের কোনো তাড়না পাননি জিমি নিশাম। দেখা যাক ট্রফি জিতে এবার নিশামকে উল্লাসে ভাসাতে পারেন কি না মিচেল!

ট্রেন্ট বোল্ট

অভিষেকের পর থেকে ট্রেন্ট বোল্ট ফর্মে ছিলেন না এমন নজির অতি নগন্যই। বিশ্বকাপ এলে তো আরও উজ্জ্বল হয়ে যান। সুইং-সিমের মায়াজালে ব্যাটারদের এমনভাবে বন্ধী করেন তাতে মুগ্ধতার শেষ নেই। কিন্তু তাকে নিয়ে আলোচনাটা কমই। অবশ্য নিউজিল্যান্ডের সব খেলোয়াড়কে নিয়েই আলোচনাও কম হয়। পাশাপাশি নিজেকেও তারা আলোর বাইরে রাখেন।

ট্রেন্ট বোল্ট

টুর্নামেন্টে পেসারদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১১টি উইকেট নিয়েছেন বোল্ট। যদিও সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছিলেন কিছুটা বিবর্ণ। ৪০ রান দিয়ে উইকেট শূন্য থাকেন বাহাতি এই পেসার। সেটা নিশ্চয়ই মনে আছে তার। তাই ঘুরে দাড়াতে উদ্গ্রীব থাকবেন তিনি। পরিসংখ্যান বলছে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার রেকর্ডটা মন্দ নয়। ৮ ম্যাচে নিয়েছেন ১০ উইকেট। রান দিয়েছেন ওভারপ্রতি ৭.৮৭ করে। সেটাকে আরও উন্নত করার চেষ্টাই ফাইনালে করবেন বোল্ট।

ইত্তেফাক/টিএ