যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ভেনিজুয়েলার সেনাবাহিনীকে সে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ত্যাগ করতে বলেছেন। তিনি বলেন, যারা মাদুরোকে সাহায্য করছে তাদের দিকে বিশ্ববাসী দৃষ্টি রাখছে। ট্রাম্পের বক্তব্যকে নািসদের মতো বলে মন্তব্য করে ভেনিজুয়েলার সেনাবাহিনী একতাবদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাদুরো। ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও পুনরায় নির্বাচন দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন মাদুরো।
ভেনিজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সামরিক বাহিনীর যারা সমর্থন দিচ্ছেন তারা তাদের জীবন ও ভবিষ্যত্ ঝুঁকিতে ফেলছেন বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনিজুয়েলায় মানবিক ত্রাণ প্রবেশ আনুমোদন করতে বাহিনীটির প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। সোমবার ফ্লোরিডার মিয়ামিতে এক সমাবেশে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। সমাবেশে উপস্থিত লোকজনের অধিকাংশই ছিল ভেনিজুয়েলা ও কিউবা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসী। ট্রাম্প বলেন, ভেনিজুয়েলার সামরিক বাহিনী যদি মাদুরোকে সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রাখে তাহলে তারা ‘সবকিছু হারাবে’। ‘তোমাদের সামনে কোনো নিরাপদ ভবিষ্যত্ নেই, বের হওয়ার সহজ কোনো দরজা নেই এবং কোনো পথও নেই। তোমরা সবই হারাবে’।
সোমবার রাতে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পের ভাষণকে ‘নািস ধরনের’ বলে অভিহিত করেছেন মাদুরো। বলেছেন, ট্রাম্পের আচরণ দেখলে মনে হয় তিনি ‘ভেনেজুয়েলার মালিক’ এবং এর ‘নাগরিকরা তার দাস’।
‘ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর চাই আমরা, কিন্তু সব বিকল্পই খোলা আছে,’ সমাবেশে বলেছেন ট্রাম্প। এই উক্তির মাধ্যমে ট্রাম্প ‘সামরিক বিকল্প তৈরি আছে’, ফের এমন ইঙ্গিত দিলেও এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলে মনে করছেন লাতিন আমেরিকা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অধিকাংশ জন, জানিয়েছে রয়টার্স।
চলতি মাসে হোয়াইট হাউসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ভেনিজুয়েলার সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে এবং তাদের প্রতি মাদুরোর সঙ্গ ছাড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভেনিজুয়েলার সামরিক বাহিনীর অনেকেই মাদুরোর বিরুদ্ধে যাবেন বলে ট্রাম্পের সহযোগীরা খোলাখুলি ধারণা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু বাস্তবে এ পর্যন্ত অল্প কিছু সামরিক কর্মকর্তাই শুধু মাদুরোর বিরুদ্ধে গেছেন।
নিজেকে ভেনিজুয়েলার ‘অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণাকারী বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদোর প্রতি দৃঢ় সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি লাতিন আমেরিকার অনেকগুলো দেশ ও অধিকাংশ পশ্চিমা দেশ ভেনিজুয়েলার ‘অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে গুইদোকে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু মাদুরো রাশিয়া ও চীনের সমর্থনের পাশাপাশি ভেনিজুয়েলার নিরাপত্তা বাহিনীগুলোসহ রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর সমর্থন ধরে রেখেছেন।
গত বছর ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন মাদুরো। কিন্তু বিরোধীদলবিহীন ওই নির্বাচনকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে রায় দিয়েছেন সমালোচকরা।
