ইদলিবে জোড়া বোমা হামলায় নিহত ১৫

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৫৮

সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে মধ্যপ্রাচ্যের

দেশগুলোকে নতুন করে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আল জাজিরা ও রয়টার্স

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় বিদ্রোহী অধ্যুষিত শহর ইদলিবে জোড়া বোমা হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অনেক। এ দিকে সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে নতুন করে চাপ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সোমবারের বিস্ফোরণের ব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, একটি গাড়িতে বোমা লাগানো ছিল। হতাহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক কর্মী। বিস্ফোরণের কয়েক মুহূর্ত আগে তারা সেখানে পৌঁছেছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ত্রাণকর্মীরা হতাহতদের দেহ সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এ দুটি বোমা হামলার একটির জন্য প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত বাহিনী এবং আরেকটির জন্য জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) দায়ী করেছেন সিরীয় বিদ্রোহীরা। তারা দাবি করছেন, বেসামরিক লোকজন উপস্থিত থাকার পরেও এ হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ইদলিবে সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের সর্বশেষ শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।

সিরিয়ায় ২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ। সিরিয়ার চলমান সংকট নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিপরীতধর্মী। বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য তারা আসাদ সরকারের বিদ্রোহ ঘোষণাকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে। রাশিয়া ও ইরান বাশার আল আসাদকে সমর্থন করায় আসাদ সরকার এখনো বহাল তবিয়তেই আছে।

এ দিকে সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ (ইউএই) উপসাগরীয় দেশগুলোকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে প্রায় আট বছর গৃহযুদ্ধের পর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ আবারো রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাধার সম্মুখীন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কার্যত আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করে সিরিয়া। এর মধ্যে উপসাগরীয় অনেক দেশই সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে, সিরিয়ায় তাদের দূতাবাস বন্ধ করেছে। শুধু তাই নয়, আরব লিগ থেকে সিরিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করা ছাড়াও ফ্লাইট চলাচল এবং সীমান্ত পারাপারও বন্ধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য দেশগুলো দেশটির ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে। যুদ্ধ বন্ধে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্মত না হওয়া পর্যন্ত সিরিয়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ফিরে আসুক, তা চায় না ওয়াশিংটন।