বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৩ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

জাবির ভর্তি পরীক্ষা

আলোহীন চোখে স্বপ্ন দেখছেন ফারুক

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২১, ২০:০০

দু’চোখে আলো নেই, পথ চলতে হয় অন্যের সহযোগিতায়। চোখে দেখতে না পাওয়ায় পদে পদে বাধার সম্মুখিন হয়েছেন, তবুও থেমে থাকেননি ফারুক। মনের চোখ দিয়েই যেন সবকিছু দেখে নেন। আলোহীন চোখে স্বপ্ন দেখেছেন অনেক বড়। অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে জয় করতে চান নিজের স্বপ্নকে। তাই এইচএসসি’র গণ্ডি পেরিয়ে এলাকার এক ছোট ভাইয়ের হাত ধরে এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দিতে। বলছিলাম রবিবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটের (সমাজবিজ্ঞান অনুষদ) ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ফারুকের কথা।

স্বপ্নবাজ এই তরুণের নাম ফারুক হোসাইন। বাবার নাম মো. ফজলুল হক, বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের বাঘুলি গ্রামে। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি মেঝো। তার প্রাইমারি পর্যায়ের লেখাপড়ায় সহযোগিতা করেছে মিরপুরের ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহেবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (বার্ডো) নামে একটি সংস্থা। পরে তিনি মিরপুরের ইসলামিয়া মাধ্যমিক স্কুল থেকে এসএসসি ও সরকারি বাঙলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছেন।   

জানা যায়, ৬ বছর বয়সে গ্লুকোমা প্রেসারে প্রথমে ফারুকের বাম চোখ নষ্ট হয়। এরপর দীর্ঘদিন তার দু’চোখের চিকিৎসা চালানো হয়। এর মধ্যে তার দু’চোখে মোট ৪ বার অপারেশন করানো হয়। কিন্তু তার চোখ ভালো না হয়ে উল্টো ১৩ বছর বয়সে ডান চোখও নষ্ট হয়ে যায়।

ফারুক হোসাইন ইত্তেফাককে বলেন, আমার বয়স যখন পাঁচ বছর, তখন আমার বাবা বিদেশ থেকে একটি টিভি নিয়ে আসেন। অন্যরা দূরে বসলেও আমি টিভির কাছে গিয়ে বসতাম। পরে আমার চোখে কম দেখার বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারে। এরপর থেকেই আমার চোখের চিকিৎসা শুরু হয়। তখন জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই আমার গ্লুকোমা প্রেসার ছিল। তবে আমাদের গ্রামের মানুষ এ রোগটির বিষয়ে অবগত না থাকায় শুরুতে বুঝতে পারিনি।

তিনি বলেন, আমি লেখাপড়া করে এতোদূর আসতে পারবো কোনদিন ভাবিনি। আমার বাবা-মা সকল পরিস্থিতিতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। তাদের প্রচেষ্টার কারণেই আমি পড়াশোনা করতে পারছি। এছাড়া ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহেবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (বার্ডো) আমাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে।

তিনি আরও বলেন, এইচএসসি ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের বই তৈরির সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নেই। এইচএসসি পর্যায়ে একটি প্রতিষ্ঠান আছে, যারা আরেকজনের পড়া রেকর্ড করে দেয়। তবে বই তৈরি করে দেয় না। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের সুবিধার্তে সরকারের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা উচিত।

রবিবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ‘বি’ ইউনিটের (সমাজবিজ্ঞান অনুষদ) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন সকাল ৯টায় প্রথম শিফটের পরীক্ষা শুরু হয়। এরপর বেলা চারটায় ৫ম শিফটের মধ্য দিয়ে ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা শেষ হয়। তবে এদিন ৩৮ শতাংশ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক রাশেদা আখতার। তিনি জানান, ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬২ দশমিক ৭৪ শতাংশ উপস্থিত ছিলো।

উল্লেখ্য, এ বছর ‘বি’ ইউনিটে মোট আসনের বিপরীতে ৩৭ হাজার ৮৪৭ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ইউল্যাবে ‘ডিফারেন্সমেকার ২০২১’ এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত

জাবি ক্যাম্পাসে আবারও ফিরেছে পরিযায়ী পাখিরা

পিঠাপুলির সুবাসে ইবিতে পৌষ উৎসব

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

জবি চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি আমান, সম্পাদক নিলয়

৫২ বছরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

খুবিতে স্থাপিত হচ্ছে বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল