চলতি বছরের ১৬ মার্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নতুন ক্যাম্পাসের লেক নির্মানের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এ দরপত্রে চারটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহন করে। কাজ করার জন্য একটি কোম্পানীকে নির্দিষ্ট করে মন্ত্রনালয়ের প্রেরণের আগেই পুরো প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে।
নতুন ক্যাম্পাস প্রকল্পের ১৯২০ কোটি ৯৪ লক্ষ টাকার মধ্যে ভূমি উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও প্রকৌশল ভবন নির্মান, অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, লেক খনন, পুকুর খনন, ঘাট নির্মান, সংযোগ সেতু নির্মাণ, অভ্যন্তরীন সারফেস ড্রেন নির্মানের কাজ এখনো শুরু হয়নি।
২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কেরাণীগঞ্জে ক্যাম্পাস নির্মানের সিদ্ধান্তের ৫ বছর পার হলেও জমি অধিগ্রহন ছাড়া কোন কাজই হয়নি। নতুন ক্যাম্পাসের কাজ থমকে আছে মাস্টারপ্লান ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতার জন্য। এর মধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ তিন দফায় ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। ব্যয় হয়েছে ১৪৪১.৪ কোটি টাকা।
জানা যায়, ২০১৯ সালে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন: ভূমি অধিগ্রহন ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য ২৯ কোটি ৫৮ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপিতে জিওবির অর্থায়নে মাস্টারপ্লান এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান খাতে ৩০ কোটি টাকা রাখা হয়। ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞপ্তির পর ২১ মার্চ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য ১৮টি প্রতিষ্ঠানের ইওআই গ্রহন করা হয়। ৩০ নভেম্বর প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটি ১৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত তালিকা করে।
২০২০ সালের ১৫ মার্চ তিনটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আরএফপি-এর চাহিদা অনুযায়ী টেকনিক্যাল ও ফিন্যান্সিয়াল প্রস্তাব দাখিল করে। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সৃজনী উপদেষ্টা লিমিটেড কারিগরি মূল্যায়নে সর্বোচ্চ স্কোর অর্জন করে এবং তাদের সেবার মূল্য ৪ কোটি ৮ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা। ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচাযের্র পরামর্শে নির্মান প্রতিষ্ঠান আরবানাকে ২১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসাবে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় আরেকটি প্রতিষ্ঠান ডিপ্লোপমেন্ট ডিজাইন কনসালটেন্স লিমিটেড ১৭ কোটি ৫০ লক্ষ টাকায় সেবার মূল্য নির্ধারণ করে।
গত ১১ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ২০২০-২১ আর্থিক বার্ষিক কর্মসূচির সভায় ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন: ভূমি অধিগ্রহন ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগ ও মাস্টার প্লান প্রনয়নের জন্য ক্রয় প্রক্রিয়া পিপিআর অনুযায়ী না হওয়ায় বিষয়টি মন্ত্রনালয় থেকে অনুমোদন নাকচ করে দেওয়া হয়। মন্ত্রনালয়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করলে পিপিআর-এর ব্যতয় হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার প্রকৌশলী মোঃ ওহিদুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি মাস্টারপ্ল্যান উপস্থাপন করা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে এ সভায় কারা উপস্থিত ছিলেন আর কাদের তৈরি করা ডিজাইনটি ছিল সে বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সাহাদাত হোসেনকে মোবাইলফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় চিফ ইঞ্জিনিয়ার প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন বলেন, নতুন ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীরের দরপত্র অনুমোদনের অপেক্ষায়। দ্রুতই সীমানা প্রাচীরের কাজ শুরু হবে। আর মাস্টারপ্লানের জন্য পুনঃদরপত্র দেওয়া হবে। উপাচার্যের কাছে এবিষয়ে একটি ফাইল দেওয়া হয়েছে। উনি বললেই দরপত্র আহ্বান করা হবে। পূর্বের লেক নির্মানের দরপত্র বাতিল করা হয়েছে।
২০২১ সালের ৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ ইমদাদুল হক যোগদানের পর মাস্টারপ্ল্যানের কোম্পানী নিয়োগে জটিলতা ও অনিয়মের কারণে পুরো প্রক্রিয়া বাতিল করেন। গত ২৩ আগস্ট মাস্টারপ্ল্যানের জন্য পুনঃদরপত্র আহ্বানে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন প্রক্রিয়া শুরু করে।
এই প্রক্রিয়া শুরুর ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো দরপত্র প্রকাশ করা হয়নি। নতুন ক্যাম্পাসের কাজের অগ্রগতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ ইমদাদুল হক বলেন, নতুন ক্যাম্পাসের কাজের মাষ্টারপ্ল্যানের দরপত্রে জটিলতা ছিল। আগের পুরো প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। আগের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সাথে যদি কেউ জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজ দ্রুত করার জন্য ইউজিসি, মন্ত্রনালয় ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিক বৈঠক করেছে।
