সকাল থেকে সন্ধ্যায় দুনিয়াজুড়ে চলছে চায়ের রাজত্ব। চা বহু মানুষের প্রিয় পানীয়। চা শরীরকে সতেজ ও মনকে প্রশান্ত করে। চা স্বাস্থ্য উপকারি এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওষুধের কাজও করে। শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে চায়ের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
ক্লান্ত লাগলে, বিশেষ করে সর্দি-কাশির ধাত যাঁদের রয়েছে, তাদের জন্য চা খুব উপকারি। দৈনন্দিন জীবনে টুকটাক প্রায় সব সমস্যার উপশমেই পান করতে পারেন চা। কিন্তু চায়ের আছে রকমফের। চায়ের সঙ্গে আদা, গোলমরিচ, এলাচ, দারুচিনি ব্যবহার কমবেশি সবারই জানাশোনা। তাছাড়া হারবাল চা তো আছেই। তবে করোনাকালের এই শীতে শরীর ভালো রাখে, আর সহজেই তৈরি কারা যায় এমন এক চায়ের নাম ‘তেজপাতা চা’।
এই পাতার নামের মধ্যেই একটা তেজ তেজ ভাব আছে। প্রাচীনকাল থেকেই মশলা হিসেবে সুপরিচিতই নয়, রীতিমত খ্যাতি রয়েছে তেজপাতার। এছাড়াও প্রচুর ঔষধি গুণ তো আছেই। আর রান্নায় এই পাতা ব্যবহার করলে যেমন গন্ধ বাড়ে তেমনি হজমও ভালো হয়। এই সময়টাতে প্রতিদিন এক চা চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন তেজপাতা চা, যা আপনার অনেক উপকার করবে। শরীরকে রাখবে সতেজ ও প্রাণবন্ত।
তেজপাতা চা তৈরি করা খুব সহজ। প্রথমে একটি পাত্রে ২ কাপ পরিমাণ পানি গরম করে তাতে ৩ টি তেজপাতা এবং এক চিমটি দারুচিনির গুঁড়া দিয়ে মিনিট দশেক ফুটিয়ে নামিয়ে নিতে হবে। এরপর সঙ্গে যোগ করতে হবে অল্প পরিমাণে লেবুর রস ও মধু। ব্যাস তৈরি ‘তেজপাতা চা’। তেজপাতায় আরও কী কী উপকার হয় জেনে নেওয়া যাক।
- তেজপাতা চা পানে হজমশক্তিই শুধু বাড়বে না, শরীরের বিপাকক্রিয়ার ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। অতিরিক্ত ওজন কমবে। পেট ফাঁপা, বুকজ্বালা, বদহজম এসব থেকেও মিলবে মুক্তি।
- সর্দি-কাশি হলে বিশেষ করে কারো যদি বুকে কফ জমার মতো সমস্যা থাকে তাহলে তেজপাতা, তুলসী পাতা, মধু একসঙ্গে গরম পানি দিয়ে খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।
- বাতের ব্যাথা, মাইগ্রেনের ব্যথা বা পায়ে চোট লেগে ফুল গেলে ব্যথায় খুব উপকারী তেজপাতার তেল।
- ব্রণের সমস্যা নিয়ে যারা চিন্তিত তারা চন্দন আর তেজপাতা একসঙ্গে বেটে মুখে লাগাতে পারেন। দাগ থেকে তো রেহাই পাবেনই পাশাপাশি ত্বক থাকবে উজ্জ্বল ও সতেজ।

