নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পরিবহন চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মদনপুর এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের আট সদস্যসহ দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে আমির গ্রুপ ও খলিলুর রহমান খলিল গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গুরুতর আহত খলিলকে (৪৮) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দুই বারের নির্বাচিত সদস্য খলিলকে কুপিয়ে আহত করার মধ্য দিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। দুপুর ১২টার দিকে খলিল মদনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তার নিজস্ব পল্ট্রি ফিডের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় আমির গ্রুপের আমির সোহেলসহ অর্ধশতাধিক ক্যাডার এসে তাকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এ সময় শাহ আলম নামে এক হকার খলিলকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাকেও মাটিতে ফেলে কুপিয়ে আহত করে ক্যাডাররা।
খলিল মেম্বারের উপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে খলিল গ্রুপের সদস্যরা মাইকে ঘোষণা দেয়। তারা আমির গ্রুপের সদস্যদের বাড়িঘরে হামলা চালায় এবং নবী মার্কেটে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় খলিল গ্রুপ এশিয়ান হাইওয়ে ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বন্ধ করে দেয়। সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে আমির গ্রুপও পাল্টা হামলা করলে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ইট পাটকেল নিক্ষেপে পুলিশের ৮ সদস্য আহত হয়। পরে র্যাব ও পুলিশের সাঁজোয়া যানসহ অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব এলে অবরোধকারীরা সড়ক থেকে নেমে যায়।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি ও স্থানীয় পরিবহন সেক্টরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের শুরু। এর আগেও একাধিকবার দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে দুই পক্ষেরই থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
