স্পোর্টস রিপোর্টার
নিউজিল্যান্ডের মাটিতে স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয়-পরাজয়ের স্কোর লাইন এখন ০-১২। এই রিপোর্ট পাঠকরা যখন পড়বেন ততক্ষণে ডানেডিনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ১৩তম সাক্ষাত্টাও (মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৪টায় শুরু ম্যাচ) হয়তো শেষের প্রান্তে থাকবে। তবে অপয়া হিসেবে খ্যাত ১৩ নম্বর লড়াইটা অন্তত জিততে চায় বাংলাদেশ। সেই ইচ্ছাপূরণের মিশনের আগে অবশ্য চোটের ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দলকে।
টানা দুই হারে সিরিজ খোঁয়ানো বাংলাদেশ দল তৃতীয় ওয়ানডেতে পাবে না মোহাম্মদ মিঠুনকে। দুই ম্যাচে যিনি ছিলেন দলের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে ছিটকে গেছেন তিনি। বিশ্রামে থাকতে হবে ১০-১২ দিন। প্রথম টেস্টের আগে ফিট হওয়ার কথা মিঠুনের।
দুটি হাফ সেঞ্চুরি করা মিঠুনের সঙ্গে সংশয় তৈরি হয়েছিল মুশফিকুর রহিমকে নিয়েও। ক্রাইস্টচার্চে দেশের হয়ে দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ২০০ ওয়ানডে খেলা মুশফিক পাজরের ব্যথায় ভুগছেন। স্ক্যানে অবশ্য খারাপ কিছু ধরা পড়েনি। তাই ডানেডিনে শেষ ওয়ানডেতে মুশফিককে পাওয়ার আশা আরও বেড়েছে। টিম ম্যানেজমেন্টের আশা, ম্যাচটি খেলবেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে ম্যাচের আগে ওয়ার্মআপের সময় মুশফিকের সর্বশেষ অবস্থা দেখে।
গতকালই স্ক্যান করা হয়েছে মিঠুন ও মুশফিকের। ডানেডিনে দলের সঙ্গে থাকা ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট মিঠুনের ইনজুরি নিয়ে বলেছেন, ‘মোহাম্মদ মিঠুনের অবস্থা ভালো নয়। বেশ কিছুদিন সময় লাগবে, ১০-১২ দিন লাগবে ঠিক হতে। সেজন্য শেষ ওয়ানডে মিস করবে। প্রথম টেস্ট ম্যাচের আগে ফিট হবে বলে আশা করছি।’
পাজরের ব্যথা কাটিয়ে মুশফিক খেলবেন বলেই আশাবাদী বাংলাদেশ দল। গতকাল পাইলট বলেছেন, ‘মুশফিকের অবস্থা বেশ ভালো। স্ক্যানে কিছু ধরা পড়েনি। আজকে (গতকাল) অবশ্য সেভাবে অনুশীলন করেনি। কালকে (বুধবার) সকালে ওয়ার্ম-আপের সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কতখানি ফিট, সেটি দেখেই সিদ্ধান্ত হবে। তবে আশা করছি, সে খেলবে।’
মিঠুনকে পাওয়া যাবে না। মুশফিকও পূর্ণ ফিট নন। তাই ওয়ানডে দলে ডাকতে হয়েছিল মুমিনুল হককে। ডানেডিনে বাংলাদেশের একাদশে পরিবর্তন আসছে এটা নিশ্চিত। মুশফিক না খেললে, কম্বিনেশনে পরিবর্তন আসবে বেশ। চোটে পড়া সাকিব আল হাসান না যাওয়ায় ওয়ানডে সিরিজটা ১৪ জন নিয়েই খেলেছে বাংলাদেশ। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মাশরাফি আবারও বলেছেন, দলটা ১৬ জনেরই হওয়া উচিত ছিল।
তিনি বলেছেন, ‘দলে অতিরিক্ত একজন ব্যাটসম্যান থাকলে ভালো হতো। সাকিবকে ধরলে কিন্তু অতিরিক্ত ব্যাটসম্যান ছিল। মিঠুন ছিল, সাব্বির ছিল। সাকিবের চোটের পর অতিরিক্ত ব্যাটসম্যান আনা হয়নি। দ্বিধায় ছিলাম একজন বাঁহাতি স্পিনার আনা হবে কি না, সে শেষ মুহূর্তে চোটে পড়ায় বদলি আনা সম্ভব হয়নি। ১৪ জনের স্কোয়াড নিয়েই আছি।’ দলে নেয়া হলেও মুমিনুলের ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা কম।
চোটাঘাতের ধাক্কা, নিজেদের মাটিতে অপ্রতিরোধ্য নিউজিল্যান্ড, তারপরও জয়ের কঠিন মিশনে সফল হতে চান মাশরাফি। তিনি বলেছেন, ‘আমি অবশ্যই জয়ের কথা বলব। ২০১৭ সালে আমরা আয়ারল্যান্ডে শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছিলাম। আসলে সব সময় যেটি আশা করা হয়, সেটি কিন্তু হয় না। এ দেশের মাটিতে ম্যাচ জেতাটা অনেক কঠিন হয়তো, সেটি আমরা জানি। তারপরও আমরা জিততে চাই।’
