রোববার, ০৭ আগস্ট ২০২২, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

প্রতিপক্ষের হাতে বিচারের ভার!

সব সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত আত্তীকৃত কলেজ শিক্ষকরা

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২১, ০৬:৪৩

যেসব শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণ চাননি, আবার আত্তীকরণকৃত কলেজের শিক্ষকরা ক্যাডারভুক্ত হয় সেটাও চাননি। এখন সে সব কর্মকর্তাদের ওপরও দায়িত্ব আত্তীকরণকৃত শিক্ষকদের সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। যদি প্রতিপক্ষের হাতে বিচারের ভার পড়ে তাহলে সে বিচারটি কেমন হবে? এমন একটি প্রশ্ন রেখে কথাগুলো বলেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী শিক্ষক। 

২০০০ সালের পর থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যেসব কলেজ জাতীয়করণ হয়েছে এই বিধিমালার আলোকেই তাদের সুযোগ সুবিধা পাওয়ার কথা। 

শিক্ষকদের অভিযোগ, এ বিধিমালা মানছেন না মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কিছু কর্মকর্তা। তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ভুল বুঝিয়ে এসব শিক্ষকদের নিয়মিতকরণ, স্থায়ীকরণ, পদোন্নতি, প্রশিক্ষণসহ সব ধরণের সুযোগ সুবিধা আটকে দিয়েছেন। ফলে হয়রানির শিকার হচ্ছি আমরা। তাদের রোশানলের শিকারে পড়েছি আমরা। 

শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা আত্তীকৃত শিক্ষকদের ক্যাডারভুক্ত না করার দাবিতে আন্দোলন করেছেন। ধর্মঘট করেছেন। উচ্চ আদালতে রিট মামলাও করেছেন। তাদের দাবিতে ২০১৮ সালের বিধিমালায় আত্তীকৃত কলেজ শিক্ষকদের ননক্যাডারভুক্ত করা হয়। এখন সেই শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা হাতেই এই সব শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধার বিষয়টি। 

বিধিমালা ২০০০ এর ৬(৫) বিধিতে বলা আছে ‘এই বিধিমালা অনুসারে কোন ব্যক্তির এডহক নিয়োগ নিয়মিত করা হইলে সংশ্লিষ্ট পদে তাহার আত্তীকরণ সম্পন্ন হইবে এবং শিক্ষকের ক্ষেত্রে নিয়মিতকরণের আদেশ প্রদানের তারিখে তিনি ক্যাডারভুক্ত হইয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।’ 

শিক্ষকরা বলেন, ২০১৮ সালের বিধিমালায় ননক্যাডার হলেও ২০০০ সালের বিধিমালায় আত্তীকৃত কলেজ শিক্ষকদের ক্যাডারভুক্তের বিধান রয়েছে। এ কারণে, এই বিধিমালা অনুযায়ী কলেজগুলোর শিক্ষকরা বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের অন্তর্ভুক্ত হবেন। এছাড়া স্বাভাবিক পর নিয়মিতকরণ ও স্থায়ীকরণ হবে। কিন্তু দীর্ঘদিনেই এসব শিক্ষকরা স্থায়ীকরণ হতে পারছেন না। ফলে এসব শিক্ষকরা স্থায়ীকরণের আগেই অবসরে যাচ্ছেন। আর শতভাগ পেনশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নিয়মিতকরণ না হওয়ায় অনেককে ভুতাপেক্ষ নিয়মিতকরণ করতে হচ্ছে। 

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখার উপ-পরিচালক মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ২০০০ বিধিমালার আলোকে আত্তীকৃতদের বিষয় হাইকোর্টে মামলা চলমান আছে। এ কারণে ২০০০ সালের বিধিমালার আলোকে যেসব শিক্ষক আত্তীকৃত হয়েছেন তারা ‘ক্যাডার’ নাকি ‘নন-ক্যাডার’ তা এখনও বলা যাচ্ছে না। এ কারণে এসব শিক্ষকদের নিয়মিতকরণ, স্থায়ীকরণ ও অন্যান্য সুবিধা দেয়া যাচ্ছে না এ বিষয়ে আইন শাখা আরও ভালো বলতে পারবেন বলে তিনি জানান। 

তবে অধিদপ্তরের শিক্ষা অফিসার (আইন) মু. আবুল কাসেম বলেন, ২০০০ সালের বিধিতে যারা নিয়োগ পেয়েছেন তারা ক্যাডারভুক্ত হবেন। তাদের বিষয়ে কোন মামলা চলমান নেই। আর আত্তীকরণের আগেই যে পদে থাকুক না কেন শিক্ষক পদে সবাই প্রভাষক হিসাবেই নিয়োগ পাবেন। 

বাংলাদেশ সরকারি কলেজ শিক্ষক ফোরামের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা যারা আত্তীকৃত হয়েছি, তাদের চাকরি নতুন নয়। সকলেই এমপিও-ভুক্ত, নিয়মিত ও স্থায়ী শিক্ষক ছিলাম। প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি এবং সরকারি নিয়মে শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধির মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আমরা নিয়োগ পেয়েছি। ২ বছর চাকরি সন্তোষজনক হওয়ার পর আমাদেরকে নিয়মিতকরণ ও স্থায়ীকরণ করেছেন। তাই আত্তীকরণ বিধিমালা-২০০০ অনুযায়ী চাকরিকে পঞ্চাশ ভাগ ইফেক্টিভ সার্ভিস হিসেবে (কার্যকর চাকরিকাল) গণনা করে ভুতাপেক্ষভাবে বেতন নির্ধারণ, চাকরি নিয়মিতকরণ, স্থায়ীকরণ, বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ ও পদোন্নতিসহ সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার দাবিদার। কিন্তু আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।।

এই শিক্ষক বলেন, আমি ১৯৯৬ সালে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পাই এবং যোগদান করি। সর্বশেষ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হিসেবে গভর্নিং বডি আমাকে আমাকে নিয়োগ দেয়। প্রতিষ্ঠানটি সরকারি হওয়ার পর ২০০০ সালের বিধি অনুযায়ী আবার প্রভাষক হয়ে যাই। ২৫ বছর আগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করি, এখনও প্রভাষক হিসেবেই আছি। অথচ আমার সময়ে নিয়োগ প্রাপ্ত অনেকেই অধ্যাপক পর্যন্ত হয়েছেন। ২০০০ বিধিতে আত্তীকৃতরা দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীগণের ক্ষেত্রে বেসরকারি সময়ের চাকরিকে ইফেক্টিভ সার্ভিস (কার্যকর চাকরিকাল) গণনা করা হয়েছে। ফলে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী নিয়মিতকরণ, স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতির সুযোগ পেয়ে একই সাথে নিয়োগ পাওয়া বেসরকারি সময়ের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সহকারী অধ্যাপক হয়েছেন।

সরকারি শেখ মুজিবুর রহমান কলেজের প্রভাষক মীজানুর রহমান বলেন, আমি ১৯৯৮ সালে চাকরিতে যোগদান করি। সরকারি-বেসরকারি মিলে আমার চাকরির বয়স ২৩ বছর। আমার সম-সার্ভিসের সহকর্মীরা সহযোগী অধ্যাপক এমনকি অধ্যাপক পর্যন্ত হয়েছেন। আর আমি প্রভাষক। ২০০০ বিধিতে সবকিছু স্পষ্ট থাকার পরও মাউশি উক্ত বিধিতে আত্তীকৃত বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বার বার অধিকার বঞ্চিত করছেন। 

২০১৮ সালের পদোন্নতি বঞ্চিত বাংলাদেশ সরকারি কলেজ শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জহিরুল ইসলাম বলেন, আমরা  রাষ্ট্রপতি প্রণীত ২০০০ বিধির মধ্যে প্রদত্ত সুযোগ সুবিধাগুলিই পেতে চাই এর বাইরে কিছু না। 
২০০০ সালের বিধিমালার আলোকে ৬৩ টি কলেজ জাতীয়করণ হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি কলেজের ২ হাজারের বেশি শিক্ষক আত্তীকৃত হয়েছে।

 

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

প্রাথমিকে আরও ৩০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ হবে

জাবিতে চলছে উইকেন্ড কোর্স, অনুমোদনের বিষয়ে জানেন না ভিসি

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার তৃতীয় ধাপের ফল প্রকাশ

বদলির বাধা কাটলো প্রাথমিক শিক্ষকদের 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ পেলেন ১১ হাজার ৭৬৯ জন

ছুটি শেষ হলেও ফেরেননি শেকৃবির শিক্ষকরা

দ্বিতীয় ধাপে যেসব জেলা-উপজেলায় পরীক্ষা

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ