বসুন্ধরার জয়রথ থামল

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৯

ড্র হলো রহমতগঞ্জ-মুক্তিযোদ্ধার খেলাও

 স্পোর্টস রিপোর্টার

ঘটনাবহুল খেলায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের কাছে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ড্র করেছে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস এন্ড সোসাইটি। পেশাদার ফুটবল লিগে গতকাল মঙ্গলবার ছিল যেন ড্রয়েরই দিন। তাই নোয়াখালীতে স্বাগতিক টিম বিজেএমসির কাছে গোলশূন্য ড্রয়ে বাধ্য হলো বসুন্ধরা কিংস।

গতকালকের এই ফলাফলে ১৮ পয়েন্টে থাকা আবাহনী শীর্ষে উঠে এলো। অপরদিকে ছয় ম্যাচে টানা পাঁচ জয়ের পরে এই ড্রয়ের কারণে দ্বিতীয় স্থানে নেমে আসা বসুন্ধরার পয়েন্ট ১৬। আবাহনী অবশ্য তাদের চাইতে এক ম্যাচ বেশি খেলেছে।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে কাল রহমতগঞ্জ ও মুক্তিযোদ্ধা শুধু ২-২ গোলে ড্র করেনি। দেখিয়েছে লাল কার্ড ও পেনাল্টি নষ্টের মতো ঘটনাও। এই লাল কার্ডের কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের দলটিকে প্রায় ৭০ মিনিট দশজন নিয়ে খেলতে হয়েছিল।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ১৪তম মিনিটে আইভরি কোস্টের ফরোয়ার্ড বালো ফামুসার গোলে এগিয়ে যায়। ছয় মিনিট পর তিনি আবারো লক্ষ্যভেদ করেন ২-০। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় ২৪তম মিনিটে তাদের জাপানি মিডফিল্ডার কাতো অযথা মেজাজ হারিয়ে সরাসরি লালকার্ড দেখলে।

রহমতগঞ্জ বিরতির পর ১০ জনের মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে সমতা ফেরায়। ৫২তম মিনিটে কর্নারের বল সোহেল রানার সাইডভলিতে পোস্টমুখী থাকতেই তাতে মাথা ছুঁইয়ে গোলদাতা হয়ে যান কঙ্গোর ফরোয়ার্ড সিও জুনাপিও। চার মিনিট পরের গোলেও ছিল সোহেল রানার অবদান। তার জোরালো শট গোলরক্ষক ফেরানোর চেষ্টা করলেও বল পেয়ে যান বদলি ফরোয়ার্ড চৌমরিন রাখাইন। তিনি হেডে বল জালে পাঠাতে বেগ পাননি (২-২)। 

বসুন্ধরাকে থামাল বিজেএমসি

আমাদের নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান: পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংস্ কাল  বিজেএমসির সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে দুই পয়েন্ট খোয়ায়। নোয়াখালীর শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে বসুন্ধরা এদিন যেন সুযোগ নষ্টের মহড়া দেয়। 

বসুন্ধরা কিংস্ মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলছিল। কিন্তু টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের পর খেলতে আসা দলটি সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। ৩১তম মিনিটে বখতিয়ারের ফ্রি কিক অল্পের জন্য বার উঁচিয়ে চলে যায়। চার মিনিট পর তাদের আরেকটি আক্রমণ রুখে দেন বিজেএমসির গোলরক্ষক মিলন। 

এই গোলরক্ষক ৫৬তম মিনিটে বসুন্ধরার কলিনন্দ্রেস এর ফ্রি কিক গোলে ঢোকার মুহূর্তে রক্ষা করে দলকে বাঁচান। ৬২ ও ৬৫ মিনিটে বসুন্ধরার ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড সিলভার দুটি প্রয়াসও রুখে দেন মিলন। কয়েক মিনিট পর কলিন্দ্রেসের মাঝমাঠ থেকে নেওয়া ফ্রি কিক নাসিরের টোকায় গোল লাইন অতিক্রমের মুহূর্তে বিজেএমসির এক ডিফেন্ডার কর্ণারে বাঁচান।

দেশি-বিদেশি তারকায় ভরপুর বসুন্ধরা এরপরও সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু সেগুলোও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এর মধ্যে শেষদিকে বিজেএমসির অধিনায়ক স্যামসন ইলিয়াসু বল নিয়ে বসুন্ধরার বক্সে ঢোকার মুহূর্তে ডিফেন্ডার নাসির জার্সি টেনে ধরে তাকে ফেলে দেন। রেফারি অবশ্য সরাসরি লাল কার্ড দেখান নাসিরকে। খেলা শেষে বসুন্ধরা কিংসের কোচকে রেফারির দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায়।

আজ ও আগামীকাল দেশের শীর্ষ লিগটির কোনো খেলা নেই। শুক্রবার শুরু হবে অষ্টম রাউন্ডের লড়াই।