পাটুরিয়া ঘাটে ফেরি কাৎ হয়ে যাবার ঘটনার পর ২৩ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো সরকারের কাছে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি তদন্তের স্বার্থে গঠিত দুই তদন্ত কমিটি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত সাত সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিকে ৫ দিন ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত নয় সদস্যের তদন্ত কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও এখনো আসেনি কোনো তদন্ত প্রতিবেদন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য বিআইডব্লিউটিসি আরিচা সেক্টর ডিজিএম মো. জিল্লুর রহমান বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) ইত্তেফাককে জানান, গত ২৭ অক্টোবর দৌলতদিয়া থেকে ১৭টি ট্রাক-কাভারভ্যান, ৭টি মোটরসাইকেল নিয়ে পাটুরিয়া ঘাটে এসে যানবাহন খালাসের এক পর্যায়ে কাৎ হয়ে ডুবে যায় ফেরিটি। ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ, নৌ-বাহিনী ও বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধার জাহাজ হামজা-রুস্তম ও স্থানীয় সহায়তায় ফেরিতে থাকা ও ছিটকে পড়া যানবাহন উদ্ধার করা হয়। তবে ফেরি উদ্ধারে ব্যর্থ হলে ৬ দিন পর কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়। ফেরিডুবির কারণ ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ সংক্রান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রনয়নের জন্য তাৎক্ষণিক দুইটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে, গঠিত তদন্ত কমিটির কোন রিপোর্ট অদ্যাবধি সরকার বরাবর প্রেরণ করা হয়নি।
সূত্র জানায়, ডুবে থাকা ফেরি উদ্ধারের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেনুইন ইন্টারপ্রাইজের সঙ্গে ফেরি সংস্থা দু’কোটি টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়। ওই প্রতিষ্ঠান ৬ নভেম্বর উদ্ধার চেষ্টা শুরু করে। চট্টগ্রাম থেকে আসা ওই প্রতিষ্ঠানের ডুবুরি দল, লোকবল ও ৫টি বার্জের সাহায্যে চার দিনের চেষ্টায় ডুবে থাকা ফেরিটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ফেরি দু’দিন পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিআইডব্লিউটিসি বুঝে নিয়ে পাটুরিয়া ঘাটেই রেখেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত ফেরি পুণর্বাসন বা মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ২৭ অক্টোবর পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহন নামানোর সময় দূত কাৎ হয়ে যায় আমানত শাহ্ নামে রো রো ফেরি। এরপরই এতে থাকা যানবাহনগুলোকে উদ্ধার করা হয়। তবে পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নিয়ে ঘটনার প্রায় ১৩ দিনের মাথায় ফেরিটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

