ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। দীর্ঘদিন কমিটিবিহীন বিশ্ব বিদ্যালয়ের ইউনিটগুলোর সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে প্রাণ ফিরে এসেছে সংগঠনের রাজনীতিতে। ২৮ নভেম্বর থেকে সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর সংগঠনে প্রাণ ফিরে এলেও আয়োজন নিয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
এই সম্মেলনের মাধ্যমেই উঠে আসবে হল ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব। ২০২৩ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে নানাকারণে গুরুত্ব বহন করছে হল ছাত্রলীগের এই সম্মেলন। তাই সম্মেলনের উত্তাপ এখন বিশ্ববিদ্যলয় ক্যাম্পাসের সর্বত্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতা জানান, ২৮ তারিখ হল ছাত্রলীগের সম্মেলন হলেও কোনো প্রক্রিয়ায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতারা আলাদাভাবে হলগুলোর সম্মেলনের আয়োজন করতে চান। তারা ২৮ নভেম্বর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে সম্মেলন প্রক্রিয়া শুরু করতে চান। প্রত্যেকটি হলের আলাদা আলাদাভাবে সম্মেলন করতে চান তারা। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতা একদিনে একসঙ্গে সবগুলো হলের সম্মেলন করতে চায়।
এদিকে হল সম্মেলনকে ঘিরে সব আবাসিক হলসহ পুরো ক্যাম্পাসেই উদ্দীপনা বিরাজ করছে। রাজনীতির আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত মধুর ক্যান্টিনে সকাল থেকে রাত অবধি উপস্থিত হচ্ছেন হল কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা। সেখানে প্রিয় নেতাদের নজরে আসতে স্লোগান দিয়ে জানান দিচ্ছেন নিজেদের সরব উপস্থিতি। রাতের বেলা ক্যাম্পাসের টিএসসি, ডাস, শাহবাগ ও মুধর ক্যান্টিনেও নেতাদের সান্নিধ্যে আসার চেষ্টা করছেন তারা।
এছাড়া, ক্যাম্পাসে নিয়মিত শোডাউনও করছনে তারা। সর্বত্র চলছে আলোচনা। কর্মসূচিতে উপস্থিতি বাড়াতে, নেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে অতিথি কক্ষে নিয়মিত ডাকা হচ্ছে গেস্টরুম। প্রত্যেক কর্মী হিসাব কষছেন, তার ‘নেতা’কমিটিতে কাঙ্ক্ষিত পদ পাচ্ছেন কি না। আঞ্চলিকতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে এসব আলোচনায়।
ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা বলছেন, এবারের কমিটিতে নিয়মিত ছাত্রদেরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি একেবারে শেষের দিকে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়ায় কিছুদিন ইউরোপ ছিলাম আমরা। এর মধ্যে অন্য নেতা-কর্মীরা প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়েছেন। আমরা সম্মেলনের মাধ্যমে অতিদ্রুত হল ছাত্রলীগে যোগ্য নেতৃত্ব বের করে আনার জোর চেষ্টা চালাচ্ছি।’
কেমন নেতৃত্ব আসবে জানতে চাইলে সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ‘ত্যাগী, পরিচ্ছন্ন রাজনীতিতে বিশ্বাসী ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে এমন পদপ্রত্যাশীদের নেতৃত্বে আনতে চাই। এক্ষেত্রে যারা নিয়মিত ছাত্র, তাদের গুরুত্ব দেওয়া হবে। অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকাতে সার্বিক চেষ্টা করা হচ্ছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সর্বশেষ বার্ষিক হল সম্মেলন হয় ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর। এর ১৬ দিন পর ১৩ ডিসেম্বর এক বছরের জন্য ঢাবি ছাত্রলীগের ১৮টি হল শাখার কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটির মেয়াদ চার বছর আগেই শেষ হয়। কিন্তু এর মধ্যে আর নতুন কমিটি হয়নি। এর আগে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়। এর তিন মাস পর ৩১ জুলাই সনজিত চন্দ্ৰ দাস ও সাদ্দাম হোসেনকে যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
