ধর্ষণের হুমকির কথা অস্বীকার চালক-হেলপারের

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২১, ০০:৫৪

হাফ ভাড়াকে কেন্দ্র করে বাসের হেলপারের সংগে তর্তবিতর্কের এক পর্যায়ে বদরুন্নেসা কলেজের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে অভিযুক্ত চালক-হেলপার। গ্রেফতারকৃতদের দাবি- হাফ ভাড়া নিয়ে তর্ক-বিতর্কের ঘটনা ঘটেছিলো। কিন্তু ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি। 

রবিবার (২১ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্তদের বিষয়ে এসব কথা বলেন সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, গতকাল (২০ নভেম্বর) সকালে ঠিকানা পরিবহনের একটি বাসে বদরুন্নেসা কলেজের একজন শিক্ষার্থী হাফ ভাড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে তর্ক বিতর্কের ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই বাসের হেলপার শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের হুমকি দিয়ে নানান অশালীন মন্তব্য করেছেন। আজকে সকালে এমন একটি অভিযোগ কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর জমা দিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। অভিযোগ পাওয়ার পর কলেজ অধ্যক্ষ সাবিকুন্না নাহার বেগম র‍্যাবকে বিষয়টি দেখার অনুরোধ জানান। 

তিনি বলেন, র‍্যাবের নজরে আসার পর আমাদের ইন্টেলিজেন্স টিম ও র‍্যাব-১০ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে গতকাল সকালে ওই শিক্ষার্থী বাসে উঠার সময় এবং শনির আখড়া এলাকার সকাল বেলার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অভিযুক্ত ঠিকানা বাসের হেলপার মেহেদি হাসান (৩০) ও চালক মো. রুবেল (২৭) নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

গ্রেফতারের পর তাদেরকে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী সনাক্ত করেছে জানিয়ে কমান্ডার আল মঈন বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা করবেন। 

ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগটি আসামিরা স্বীকার করেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না তারা সরাসরি স্বীকার করেনি। তবে বলেছে হাফ ভাড়াকে কেন্দ্র করে তর্কবিতর্ক হয়েছিলো। কিন্তু ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়নি বলে তারা দাবি করেছে। তবে সেটি তদন্ত কর্মকর্তা নিশ্চয় তদন্তের মাধ্যমে প্রমান করবেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে- তারা দৈনিক ৩ হাজার টাকার চুক্তিতে গাড়িটি নিয়েছিলো মালিকের কাছ থেকে। তাতাই তাদের টার্গেট থাকতো ৩ হাজার টাকা উঠানোর পর যা থাকে সেগুলো তারা ভাগ করে নিতো। এজন্যই তারা ভাড়া আদায়ে উচ্চ আকাঙ্খী ছিলো।

চুক্তি ভিত্তিক গাড়ি চালানোর বিষয়টি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিলো, তবুও কিভাবে করা হচ্ছে, এক্ষেত্রে বাসটির মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিশ্চয় তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন। 

ইত্তেফাক /কেএইচ/টিআর