সমবায় সমিতির নামে চলছে বহুমুখী প্রতারনা। ভিন্ন ভিন্ন নামে সমবায় সমিতির সাইনবোর্ড লাগিয়ে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষকে। এ চক্রের খপ্পরে পড়ে নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের শেষ সঞ্চয়টুকু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।
গত দেড় দশকে অন্তত তিন শতাধিক কোম্পানি গ্রাহকের ২০ হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে। এসব ঘটনায় বহু মামলা হয়েছে। কোন কোন ঘটনায় আসামিরা আত্মগোপন করেছেন। কোন কোন মামলায় আসামি গ্রেফতার হয়েছেন। কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে কারাবাসও করছেন। কিন্তু গ্রাহকেরা টাকা ফেরত পাননি। কবে নাগাদ কষ্টের জমানো টাকা পাবেন তাও কেউ জানে না।
মিরপুরের নবাবেরবাগ এলাকায় রংধনু বহুমুখী সমবায় সমিতি ও নিরাপদ ঘর এর প্রতারণার শিকার ১৫ হাজার মানুষ। প্রতি দিন গ্রাহকের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে জমা নেয় তারা। ২৫ মাসে ৭৪ হাজার টাকার স্থলে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথা। কিন্তু গ্রাহক সেই টাকা আর পায়নি। এই দুটি সমবায় সমিতি প্রায় ১০ কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের প্রতারণার শিকার হয়েছেন নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষ।
এরমধ্যে দুই শতাধিক হিন্দু সম্প্রদায় রয়েছে। গত দুই দিন ধরে ইত্তেফাকে ধারাবাহিকভাবে প্রতারণা সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতারণার শিকার মানুষ ইত্তেফাক অফিসে এসে তাদের অভিযোগ জানাচ্ছেন।
রংধনু বহুমুখী সমবায় সমিতির গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। আর নিরাপদ ঘরের সদস্য আছেন প্রায় ৫ হাজার। এই দুই সমবায় সমিতির নামে প্রতারণাকারীর মূল হোতা হলেন মিজান-লিটন। মিজানসহ ৫ প্রতারকের বিরুদ্ধে শাহআলী থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে মিজানসহ তিন জন গ্রেফতার হন। পরবর্তীতে জামিনে তারা বেরিয়ে আসেন। বাইরে বের হয়ে এখন প্রতারণার শিকার সাধারণ মানুষকে উল্টো হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন তারা। প্রতারণার শিকার মানুষগুলো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ধরনা দিয়েও প্রতিকার পায়নি।
একদিকে প্রতারণার শিকার হয়েছেন, অন্যদিকে ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন। আর প্রতারকরা আছেন বহাল তবিয়তে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার আ শ ম মাহাতাব উদ্দিন বলেন, মিরপুরে কয়েকশ’ প্রতারক আছেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শাহআলী থানার ওসি এবিএম আসাদুজ্জামান বলেন, প্রতারকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলা তদন্তাধীন।
