শুরুটা হয়েছিল সাকলাইন মুশতাককে দিয়ে। মাঠে অনুশীলনের সময় পাকিস্তানের কোচ সাকলাইন মুশতাক তাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করার জন্য পতাকা টাঙ্গিয়ে দিতেন। অধিনায়ক বাবর আজম জানিয়েছিলেন বাংলাদেশেও পাকিস্তানের সমর্থক আছে। কথা যেটাই হোক বাংলাদেশ-পাকিস্তান টি-২০ সিরিজে মিরপুরের গ্যালারিতে পাকিস্তানি পতাকা হাতে কিংবা পাকিস্তানের জার্সি গায়ে দর্শক হাজির হয়েছিলেন। এটা নিয়ে দেশের বিশিষ্টজনরাও সমালোচনা করেছেন। আর তাতে মিরপুরের গ্যালারিতে বাংলাদেশের কোনো দর্শকের হাতে পাকাস্তানি পতাকা দেখা যায়নি।
সোমবার (২২ নভেম্বর) শেষ টি-২০তে স্টেডিয়ামের সাধারণ গ্যালারির প্রবেশ মুখে মানববন্ধন করে একদল তরুণ। পাকিস্তানি পতাকা নিয়ে বাংলাদেশের কোনো দর্শক স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবে না, সেই প্রতিবাদে মানবন্ধন করে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে। গ্যালারিতে দুই একজন বাংলাদেশি পাকিস্তানের জার্সি গায়ে খেলা দেখতে বসলেও অন্যরা তাকে পাকিস্তানি জার্সি খুলে ফেলতে বাধ্য করেন।
টাঙ্গাইল হতে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রাফি পাকিস্তানি জার্সি গায়ে খেলা উপভোগ করেছেন বাংলাদেশের সমর্থকদের মধ্যে বসে। কেন তিনি বাংলাদেশি হয়ে পাকিস্তানের জার্সি গায়ে খেলা দেখছেন জানতে চাইলে রাফি বললেন, ‘আমি শাহীদ আফ্রিদির খেলা দেখে পাকিস্তানের ভক্ত হয়েছি। টি-২০ বিশ্বকাপ দেখে হইনি।’ যেখানে বাংলাদেশ খেলছে সেখানে বাংলাদেশকে সমর্থন না করে কেন পাকিস্তানকে সমর্থন করা হচ্ছে ? রাফি বললেন, ‘এটা আমার দেশ। আমি বাংলাদেশেরই সমর্থক। পাকিস্তানের খেলাও ভালো লাগে।’
গ্যালারির প্রবেশ মুখে নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, বাংলাদেশি দর্শকের হাতে পাকিস্তানি পতাকা আছে এমন কোনো দর্শককে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।’
গ্যালারিতে প্রায় পঞ্চাশ জন পাকিস্তানি দর্শক ছিল। তারা উচ্চ শিক্ষার্থে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে অনেকেই মেডিক্যালের শিক্ষার্থী। কেউ কেউ এমবিবিএস শেষ করে এখন বেসরকারি মেডিক্যালে চিকিৎসক হিসেবেও কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন। ডা. শেফাজ এসেছেন তার স্বদেশি বন্ধু শাহাজাদকে সঙ্গে নিয়ে। পাকিস্তানের কাশ্মির থেকে বাংলাদেশে এসে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যলয়ে পড়ছেন ফিদা, আফজালরা। তারা ছয় সাত বন্ধু এক সঙ্গে পাকিস্তানি পতাকা হাতে ঢুকেছেন।
গ্যালারিতে পাকিস্তানি যাদের সঙ্গে কথা হয়েছে তাদের প্রায় সবাই ঢাকায় লেখাপড়া করছেন বলে জানিয়েছেন। হাতে পাকিস্তানি পতাকা আঁকা নারী দর্শক। ছবি তুলতে গেলে এগিয়ে যান এই পাকিস্তানি। আরেক নারি পাকিস্তানী ডা. মারিয়ার সঙ্গে আরও ছয় সাতজন নারী বন্ধু এসেছেন। তারা সবাই পাকিস্তানের এবং বললেন, তারা চিকিৎসা নিয়ে লেখাপড়া শেষ করে এখন ডাক্তারি করছেন। এরা বাংলা ভাষায় প্রশ্ন করলেন, ‘এতো কাথা জানতে চাচ্ছেন কেন। আপনার কারণে আমরা খেলা দেখতে পারছি না।’
