সিলেটে দিনভর ভোগান্তির পর ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। সোমবার (২২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় এ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।
পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিভাগীয় কমিশনারের আশ্বাসে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আবার ধর্মঘট ডাকা হবে।’
এদিকে সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় ফেডারেশন নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন সিলেটের নতুন বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমানসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বৈঠক শেষে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেন আবু সরকার।
আবু সরকার বলেন, ‘আমাদের ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাদের ওপর বিশ্বাস রেখে ধর্মঘট স্থগিত করেছি আমরা।
সোমবার সকাল থেকে সিলেটে শুরু হয় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট। এতে বিভাগজুড়ে জনদুর্ভোগ শুরু হয়। এর আগে রবিবার ৫ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেয় পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকে পুরো সিলেট বিভাগে বন্ধ ছিলো বাস ট্রাক, অটোরিকশাসহ বেশিরভাগ পরিবহন। নগরের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলেও বাধা দেয় পরিবহন শ্রমিকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। বিশেষত এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয় সবচেয়ে বেশি। হেঁটেই অনেককে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়।
সোমবার দুপুর ২টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমা এলাকার তেতলিতে রাস্তায় অবস্থান নেয় পরিবহন শ্রমিকরা। এসময় দু’পাশে আটকা পড়ে মাইক্রোবাসসহ অনেক ব্যক্তিগত গাড়ি। পরিবহন শ্রমিকরা লোকজনকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে বাধ্য করেন। অনেকে ১০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে সিলেট নগরীতে আসেন। এক্ষেত্রে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন বৃদ্ধারা ও শিশুরা।
এর আগে সিলেটে সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির। সেই সময় শেষ হয় রবিবার। তাদের ৫ দফা দাবি আদায় হয়নি বলে জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। ফলে সোমবার থেকে কঠোর আন্দোলনে নামেন তারা।
