উপমহাদেশের অলি-গলিতে ক্রিকেটের হাতেখড়ি হয় টেপ টেনিস বলে। টেনিস বলের সেই বিন্দু থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মহাসিন্ধু মাতানো ক্রিকেটারের সংখ্যা ইতিহাসে কম নেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য বাংলাদেশ দলে সুযোগ পাওয়া রেজাউর রহমান রাজার গল্পটাও এমন রোমাঞ্চে ভরপুর।
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কুরুয়া গ্রামে ১৯৯১ সালের ১ জানুয়ারি রাজার জন্ম। পাড়ার টেপ টেনিস টুর্নামেন্টে ভালো করায় বিশেষ খ্যাতি ছিল তার। বড় ভাইদের পরামর্শেই মূল ধারায় আসার চেষ্টা চালান। ছয় ভাই-বোনের বড় সংসারে রাজাকে ক্রিকেট তীর্থে আসার মিশনে সমর্থন যুগিয়েছিলেন মা।
সিলেট, ঢাকার বিভিন্ন একাডেমির দীক্ষা নিয়ে নেট বোলার হয়ে মিরপুর স্টেডিয়ামে আসেন রাজা। গতি, বাউন্স, অফুরান প্রাণশক্তি মিলিয়ে নজরে পড়েন বিসিবির পেস বোলিং কোচ চম্পকা রমানায়েকের। তারপর নিয়মিত আসা-যাওয়া। ২০১৯ সালের এপ্রিলে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে লিস্ট-এ ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। একই বছর অক্টোবরে এবাদত-খালেদ-রাহীদের অনুপস্থিতিতে সিলেট বিভাগীয় দলের হয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগ তথা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নাম লেখান রাজা। যদিও সাদা পোশাকে অভিষেকটা ছিল ভুলতে চাওয়া এক স্মৃতি।
রাজশাহীতে বরিশালের বিপক্ষে লাঞ্চের আগেই ২৭ নো বল করে বসেছিলেন রাজা! কোচ রাজিন সালেহ, নাজমুল হোসেন হাল ছাড়েননি। আস্থা রেখেছেন ডানহাতি এ পেসারের ওপর। গত বছর বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর হয়ে টি-২০ তে অভিষেক হয় রাজার। এই টুর্নামেন্টের পরই বিসিবির হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ক্যাম্পেও ডাক পান। তাতেই ক্রিকেটে রাজার স্বপ্ন আলোর গন্তব্য পেয়ে যায়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০ ম্যাচে ৩৩ উইকেট, টি-২০ তে ১৬ ম্যাচে ১৫ উইকেট ও লিস্ট-এ ম্যাচে ৩ ম্যাচে ৬ উইকেট রয়েছে ২২ বছর বয়সী এ পেসারের।
এই তো কদিন আগে মুমিনুলদের সঙ্গে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন নেট বোলার হিসেবে। এখন রুপকথার গল্প লিখে বাংলাদেশের টেস্ট দলের সদস্য রাজা। সাদা পোশাকে দেশের পেস আক্রমণ এখন সিলেটময়। রাহী, খালেদ, এবাদতের পর নতুন সদস্য রাজা। ক্রিকেটের শীর্ষ পর্যায়ে নিজের উঠে আসার গল্পটা বলেছেন সিলেটের এ তরুণ।
গতকাল (২৪ নভেম্বর) বলেছেন, ‘আসলে টেপ টেনিস খেলা থেকে অনুপ্রাণিত হওয়া। এলাকায় টেপ টেনিস খেলার পর একটা ক্রিকেট বলের টুর্নামেন্ট হয়েছিল। আমি সেখানে খেলতে যাই। তখন বড় ভাইরা বোলিং দেখে বলেছিলেন, তোর বোলিং ভালো হচ্ছে, তুই চাইলে স্টেডিয়ামে গিয়ে ক্রিকেট প্র্যাকটিস করতে পারিস। তো আমি বড় ভাইদের কথা শুনে প্র্যাকটিসে গেলাম। প্র্যাকটিসে গিয়ে আমার মনে হলো যে, ইনশাআল্লাহ্ আমি পারবো। তো এভাবেই আসলে আমার ক্রিকেটে আসা।’
চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন রাজা। বোলিংয়ে নিজের শক্তির জায়গা জানাতে গিয়ে ডানহাতি এ পেসার বলেছেন, ‘আমার নিজের যেটা মনে হয় যে, এক জায়গায় টানা বল করতে পারি। বলে কিছু মুভমেন্ট করতে পারি। এক রিদমে টানা বল করতে পারি। দিনের শুরুতে যেই পেসে বোলিং করি, দিনের শেষে আলহামদুলিল্লাহ তার চেয়ে একটু বেশি পেসে বল করতে পারি।’
টেস্ট ক্রিকেটে রাজত্ব করতে পারবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে অনেক সম্ভাবনা নিয়ে এখন স্বপ্ন পূরণের দুয়ারে আছেন রাজা।
